সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

আওয়ামী ডাইনেস্টি

, ,

আরিফুল হক

বাংলাদেশকে জানতে হলে আওয়ামীলীগ কে জানতে হবে। আওয়ামীলীগকে না জানলে আজকের বাংলাদেশের হাল হকিকত জানা যাবেনা। বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ দল নয়, আওয়ামী ডাইনেস্টি চলছে।

কোন এক মনীষী বলেছিলেন ‘A dynasty is nothing but the successful orchestration of treachery’. কথাটা আওয়ামীলীগ দলটার সাথে হুবহু মিলে যায়।

নামকরণের কথাই ধরা যাক। জন্মসময়ে এর নাম ছিল ‘পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। হাজার বছরের বাঙালীদের আদর্শ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত হলেও, দলটির নামকরণের মধ্যেই লুকিয়ে আছে একটা ফিউজিটিভ অর্থাৎ পলাতক ভাব। প্রথম অংশ উর্দু দ্বিতীয় অংশ ইংরেজি, যাতে সহজে চেনা না যায়, কোন জাতি কোন মানুষের দল এটা। অবস্থা ভেদে খোলস বদলানোর সুবিধার্থেই হয়তো এই সুব্যবস্থা। হয়তো বা বলি কেন, পরবর্তী কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে তো স্পষ্টই দেখা যাবে যে খোলস বদল করাই দলটির অন্যতম আদর্শ।

১৭৫৭ সালে বাংলায় মুসলিম শাসন উৎখাত করার পর যে বাঙালী বাবু সমাজ বাংলার সমৃদ্ধ মুসলিম জাতিকে উৎপীড়নে, শাসনে, দীনহীন কুলিকামিনের জাতে পরিণত করেছিল। যাদের সর্বভারতীয় নেতারা বাংলা তথা ভারত থেকে মুসলমানদের নির্মূল করার চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। তাদের চক্রান্তের মুখে ছাই ঢেলে এই বাংলার মুসলমানরাই দীর্ঘ বাধা, সংগ্রামের পর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক মুসলিম রাষ্ট্রটি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। শত্রুর দল হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। মুসলিম দেশটিকে ধ্বংস করার জন্য তারা সেদিন থেকেই আর একজন মীরজাফরের সন্ধানে নেমে পড়ে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির ঠিক দু’বছর পর; ১৯৪৯;সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ দলটির জন্ম হয়। সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। সাধারন সম্পাদক, যুবনেতা শামসুল হক। যুগ্ম সম্পাদক, শেখ মুজিবুর রহমান ও খন্দকার মোশতাক আহমেদ। ক্যাশিয়ার, ইয়ার মোহাম্মাদ খান (ইনি ইত্তেফাক পত্রিকার মালিক ছিলেন, দলকে পত্রিকাটি দান করেন)।

আওয়ামীলীগের জন্মদিনটিও মনে রাখার মত। হিন্দু অমাত্য আর বেনিয়া ইংরেজদের চক্রান্তে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য দু’শ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল ১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুন। বেঈমানির সেই কালো দিন, অর্থাৎ ২৩শে জুনকে আওয়ামী নেতারা কেন দলের জন্মদিন হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন, সেটিও গবেষণার বস্তু হতে পারে। যাক সে কথা। ১৯৪৭ সালে মুসলিম ল্যান্ড পাকিস্তান সৃষ্টির দুবছর পরে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আদর্শ নিয়ে উদয় হয় আওয়ামী মুসলিমলীগের। অনেকে আজ এ ঘটনাকে বাংলাদেশের মুসলমানদের মস্তিষ্ক ধোলাইয়ের প্রথম ধাপ ছিল বলে মনে করেন।

কারন, জন্মের পরপরই প্রশ্ন উঠলো, সমাজতন্ত্র মানেতো জাতি, ধর্ম, ধনী-গরীব, উচ্চ-নীচ সব সমান। তাহলে আওয়ামী মুসলিমলীগ নাম কেন রাখা হবে? তাইতো? সমাজতন্ত্রের আদর্শে গড়া দলে মুসলিম কেন থাকবে? তাড়াও মুসলিম। ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ বিতাড়ন করে রাখা হল ‘আওয়ামীলীগ’। ৯০% মুসলিম জন অধ্যুষিত দেশ থেকে মুসলিম শব্দ উচ্ছেদের সেটাই ছিল প্রথম পদক্ষেপ। তারপর আওয়ামী ইতিহাস এগিয়ে চলল আপন লক্ষের দিকে।

১৯৪৮-৫২ পর্যন্ত বাংলাভাষার জন্য আন্দোলন। যার ফলে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বুদ্ধিজীবী মহলের পূর্ব পাকিস্তানে আসা এবং এদেশের মানুষের মগজ ধোলাই করার প্রক্রিয়া অবারিত হয়ে গেল।

১৯৫৪ সালে বাঙালী জাতীয়তাবাদের (আসলে পূর্ব পাকিস্তান কে বিচ্ছিন্ন করার) জোয়ার তৈরি করে যুক্তফ্রন্টের ভোট ও সরকার গঠন হল। কিন্তু নিজেদের মধ্যে পিটাপিটি মারামারি সংসদে চেয়ার ছোড়াছুড়ি করে ডেপুটি স্পীকার শাহেদ আলিকে হত্যার মাধ্যমে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সেই যুক্তফ্রন্ট সরকার শেষ। গভর্নর শাসন জারি হল, শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব কে জেলে নেয়া হলো।

এরপর বিশলক্ষ্যা বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে কিন্তু পূর্বপাকিস্তানের বিশৃঙ্খল রাজনীতিতে আর শৃঙ্খলা ফিরে আসেনি। ১৯৫৬ সালে আওয়ামীলীগ নেতা সোহরাওয়ার্দী সাহেব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলেন। তিনিও পাকিস্তানের রাজনীতিতে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলেননা। এখানে বলেরাখা ভাল যে , যদিও আওয়ামীলীগ ওয়ালারা প্রায়শঃ বলে থাকে যে পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাবিরা বাঙালিদের চিরকাল ঠকিয়েছে। শেখ মুজিবের পাকিস্তান ভাঙ্গার ট্রাম্পকার্ডই ছিল “সোনার বাংলা শ্মশান কেন” যেখানে তিনি তুলে ধরেছিলেন, চাউলের মন পূর্ব পাকিস্তানে ৫০ টাকা পশ্চিম পাকিস্তানে ২৫ টাকা । আটা, পূর্বে ৩০টাকা মন পশ্চিমে ১৫ টাকা মন। সরিষার তৈল, পূর্বে ৫ টাকা সের পশ্চিমে ২.৫০ টাকা ইত্যাদি। কিন্তু পোস্টারে কোথাও লেখা ছিলনা যে এই বিভেদ যদি ঘটেও থাকে, তারজন্য দায়ী বাঙালী রাজনীতিবিদরা, কারন সেসময় বাঙালী রাজনীতিবিদ নেতারাই দীর্ঘ সময় ধরে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। যেমন ১৯৪৭ সালে জিন্নাসাহেব মারা যাওয়ার পর যারা পাকিস্তানের গভর্নরজেনারেল হয়েছিলেন, খাজা নাজিমুদ্দিন (১৯৪৮), ইস্কান্দার মির্জা (১৯৬৯)। প্রধান মন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমুদ্দিন (১৯৫১-৫৩), মহম্মদ আলি বগুড়া (১৯৫৩-৫৫)। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (১৯৫৬-৫৭), নুরুল আমীন (১৯৭১)।

এই সকল বাঙালী রাজনীতিবিদদের চরম ব্যর্থতার ফলে দেশে সামরিক শাসন জারি হয়।

এবার আওয়াজ উঠল গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্র চাই।
নতুন সৃষ্ট দেশটার রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থার সুড়ঙ্গ পথ ধরে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী নেতারা এবং এদেশে তাদের পোষ্য অনুচরেরা মিলে পূর্বপাকিস্তানের জনমনে পাকিস্তান রাষ্ট্র সম্বন্ধে চরম ঘৃণা জাগাতে সক্ষম হয়। যার সুযোগ নিয়ে শেখ মুজিব ৬ দফা এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবী তুলে পাকিস্তানের পূর্বাংশকে কার্যত অস্থিতিশীল করে তোলে এবং বিচ্ছিন্নতার পথে ঠেলে দেয়।

শেখ মুজিব ভারতের সাথে সাহায্যের জন্য নেগোশিয়েসন শুরু করেন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় এরেস্ট হন। এভাবেই এসে গেল ১৯৭০ সালের নির্বাচন। জেনারেল ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর, Legal frame work বা ‘আইনগত কাঠামো’ নামে কতগুলি শর্ত বা নির্দেশ নামা জারি করলেন এবং বললেন LFO মেনে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে।
LFO টি ছিল এরকম। ১)পাকিস্তান হবে একটা ফেডারেল রিপাবলিক, যা সকল প্রদেশ ও সার্বভৌম এলাকায় ‘রিপাবলিক অফ পাকিস্তান ‘ নামে পরিচিত হবে। ২)পাকিস্তান সৃষ্টির মূলে ছিল ইসলামি আদর্শ, সেই মর্যাদা রক্ষা করা হবে। ৩) এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান হবেন একজন মুসলমান। LFO ছিল আদর্শগত ভাবে শেখ মুজিবের ৬ দফার বিপরীত। তারপরও তিনি LFO’র সকল শর্ত মেনে নিয়েই জেল থেকে ছাড়া পান।

জেল থেকে বেরিয়ে এসেই তিনি পুনরায় তার ৬ভদফা নিয়ে প্রচার শুরু করে দেন। যেমন ১) যেমন পাকিস্তানের রাষ্ট্র ব্যবস্থা হবে ফেডারেল পার্লামেন্টারি অর্থাৎ সংসদীয় গণতন্ত্র। ২) পাকিস্তানের দুই অংশে দুই মুদ্রা চালু থাকবে। ৩) কেন্দ্রের হাতে কর ধার্যের ক্ষমতা থাকবেনা। ৪) বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য থাকবে দু’দেশের পৃথক এ্যাকাউন্ট। ৫)যৌথ অঙ্গরাজ্যের প্রত্যেকে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে সেই বৈদেশিক মুদ্রা অঙ্গরাজ্য সরকারের স্বীয় নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ৬)জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অঙ্গরাজ্য গুলোকে মিলিশিয়া বা আধাসামরিক বাহিনী গঠনের অধিকার দিতে হবে। শেখ মুজিবের ৬দফা দেখে কি মনেহয় যে এগুলো সার্বভৌম পাকিস্তান রক্ষার কোন দাবী ছিল।

যাইহোক, ৬দফার দাবী নিয়েই ১৯৭০ সালে সংযুক্ত পাকিস্তানের শেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে আওয়ামীলীগ জাতীয় পরিষদের ৩০০ আসনের ১৬৮টি এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৩০০ আসনের ২৮৮টি আসন পেয়ে বিজয়ী হল। তবে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে একটি আসনও আওয়ামীলীগ পায়নি।

মুজিব তার ৬ দফা অর্থাৎ পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষা এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবীতে নির্বাচন জিতলেও, বিচ্ছিন্নতার কথা তখনও বলেননি। অবশ্য ধোঁকাবাজরা কখনও মনের কথা খুলে বলেনা। কিন্তু নির্বাচনের পরই তিনি জার্সি পাল্টে ফেলে ৬ দফার দাবীকে ১ দফায় পরিণত করলেন। তখন পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠলো।
শেখ মুজিব ৭মার্চ ৭১ হুঙ্কার দিয় বললেন, ‘ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল, তোমাদের যা কিছু আছে তাই দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে’। তিনি বললেন যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা, অথচ তলেতলে সংযুক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আবদার নিয়ে ইয়াহিয়া খানের সাথে নিয়মিত বৈঠক করে চললেন। ইয়াহিয়া খানের আপোষ রফা চেষ্টার ফর্মুলা যখন ব্যর্থ হল, তখনই ২৫ মার্চ (৭১) অপারেশন সার্চলাইট নামক কালোরাত্রির বিভীষিকা নেমে আসতে বাধ্য হল। কামান, ট্যাঙ্ক, মেশিনগান, মর্টারের মুখে পাখির মত মরতে লাগলো সাধারন মানুষ। আওয়ামী নেতারা পালিয়ে গেলেন তাদের নির্দিষ্ট সেফ হোম ভারতে। যিনি ক’দিন আগে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ার কথা বলেছিলেন সেই নেতা মুজিবুর রহমান, আপন পরিবারবর্গ কে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেফাজতে রেখে নিজেই শত্রু শিবির পাকিস্তান পালিয়ে গেলেন। দেশ নেতৃত্বশূন্য, চারিদিকে মৃত্যুর গোঙানি, পথে ঘাটে বাজারে নদীতে শুধু লাশ আর লাশ। যারা সেই দিনগুলো দেখেনি তার আজ অনুভব করতেও পারবেনা যে, কিছু স্বার্থপর নেতা আপন স্বার্থোদ্ধারের জন্য দেশ এবং দেশের জনগণকে কি পরিমাণ দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা আর বিপদের মধ্যে নিক্ষেপ করে নিজেরা নিরাপদ আশ্রয়ে পালাতে পারে। আরামের পথ খুঁজে নেয়।

ভেবেছিলাম আওয়ামী ডাইনেস্টির ইতিহাস সংক্ষিপ্ত আকারে এক প্রবন্ধে শেষ করতে পারব। কিন্তু হলোনা। এদের ইতিহাস এত মিথ্যা, গোঁজামিল, এবং ভেজালের জঞ্জালে ভরপুর যে প্রতিটি জট খুলে দেখাতে না পারলে আগামী প্রজন্মের কাছে মিথ্যা ইতিহাসই সত্য হয়ে যাবে।

আওয়ামীলীগ ডাইনেস্টির এজেন্ডা কোনদিন দেশ গড়ার, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বা দেশবাসীর কল্যাণ কামনায় নিয়োজিত ছিলনা। এদের রাজনীতির মূল এজেন্ডাই ছিল ভারতের নির্দেশে দেশকে ধ্বংস করা।
দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা সংস্কৃতির নির্বাসন, বিশেষ করে দেশের সংখ্যাগুরু মুসলমানদের ধর্ম, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ধ্বংস করে তাকে হীনমন্য জাতিতে রূপান্তর করা। এগুলোই এজেন্ডা আওয়ামীলীগের।আওয়ামীলীগের কাছ থেকে পাকিস্তান যেমন পেয়েছে হরতাল ঘেরাও, বিশৃঙ্খলা, উন্নয়নে বাধাসৃষ্টি, মারামারি, সম্পদ ধ্বংস, দেশ অচল প্রভৃতি।তেমনি বাংলাদেশ পেয়েছে স্বৈরাচার, দুর্নীতি, লুটপাট, সম্পদ পাচার, দুর্ভিক্ষ, রক্ষীবাহিনী, লালাবাহিনীর সীমাহীন অত্যাচার, গুম, খুন, নারীধর্ষণ প্রভৃতি। আওয়ামীলীগের সবথেকে বড় অবদান হলো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান কে দ্বিখণ্ডিত করে বাংলাদেশকে ইসলামের চিরশত্রু দিল্লীর হাতে তুলে দেয়া।

আজ বাংলাদেশ একটা কারাগার। যেখানে ১৮ কোটি মানুষ বন্দী জীবন যাপন করছে। কারাগারেও খানাপিনা পাওয়া যায়। ঘুমানোর জায়গা থাকে। কারাগারে থাকেনা স্বাধীনতা। থাকেনা কথাবলার অধিকার, থাকেনা সভা মিছিলের অধিকার, থাকেনা রাজনীতি, বা নির্বাচন। কারাগারে থাকেনা স্বাধীনভাবে লেখা বা মত প্রকাশের অধিকার। বাংলাদেশেও এগুলো নেই। তাই বলছিলাম বাংলাদেশ এখন কারাগার। ভারতের তিহার জেলের চাইতে বড় কারাগার। আওয়ামীলীগ ভারতের নিযুক্ত কারারক্ষী বা পাহারাদার!

লেখক: কলামিষ্ট, বুদ্ধিজীবী ও প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

One Comment

  • Arifur Rahman বলেছেন:

    আসসালামু আলাইকুম
    মাহমুদুর রহমান স্যার, অথবা অলিউল্লাহ স্যার

    আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে
    আজকে যে আর্টিকেলটা পড়লাম
    ইনশাআল্লাহ সামনে হয়তো আরো পড়ার সুযোগ করে দিবেন

    যদি বাংলাদেশে কখনও গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসে আপনাদের
    আপনাদের পত্রিকা আবার চালু হয়
    এগুলো হার্ডকপি ছাপাবেন

Leave a Reply