সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

আমাদের ঈদ সংস্কৃতি

, ,

আরিফুল হক

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে উৎসব। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর, দিনে নিরম্বু উপবাস, রাতে এবাদত, এভাবে ইন্দ্রিয়গুলোকে মাসব্যাপী শৃঙ্খলিত রাখার পর ঈদ নিয়ে আসে মুক্তির আশ্বাস। কঠোর অধ্যয়নের পর পরীক্ষা পাশের আনন্দ যেমন গলা ফাটানো উল্লাস নিয়ে ফেটে পড়ে, ঈদের একফালি চাঁদও তেমনি গলাফাটানো আনন্দের সওগাত নিয়ে আসে প্রতিটি মুসলমান ঘরে। যেমন আমাদের জাতীয়কবি বলেছেন, “ওগো, কাল সাঁঝে দ্বিতীয়া চাঁদের ইশারা, কোন মুজদা এনেছে, সুখে ডগমগ মুকুন্দী মন। আশাবরী সুরে ঝুরে সানাই, আতর সুবাসে কাতর হল গো পাথর দিল। দিলে দিলে আজ বন্ধকী দেনা নাই দলিল। কবুলিয়তের নাই বালাই”। তাই বলছিলাম ঈদ আমাদের সংস্কৃতিতে শুধু আনন্দ নয়, ঈদ উল্লাস।

উল্লাস, সংস্কৃতির অতি পরিচ্ছন্ন এবং পরিমার্জিত একটা দিক। সে সমাজে উল্লাস নেই সে সমাজ শুধু বৃদ্ধ নয়, রীতিমত অসুস্থ। সংসারে কান্না অঢেল, কিন্তু  হাসি, আনন্দ, উল্লাস হীরার মতই দূর্লভ। ইসলাম একটা বাস্তববাদী জীবন বিধান। জীবনের এই মৌলিক চাহিদা সম্পর্কে ইসলামধর্ম চোখ বুজে থাকতে পারেনা বা উদাসীনও হতে পারেনা।

দুঃখের বিষয় আজকাল ঈদ নিয়ে যে সব বক্তব্য শুনি এবং দেখি তার অধিকাংশই ঈদকে রোজার সাথে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়। ঈদের কথা বলতে গিয়ে শুধু ত্যাগ আর কৃচ্ছসাধনের কথা বলা হয়, কিন্তু ঈদ সংস্কৃতির মূল যে উদ্দেশ্য আনন্দ, সেটাই উহ্য থেকে যায়। ত্যাগ ও কৃচ্ছসাধন এগুলো রমজানের কথা, ঈদের কথা নয়। রোজা ও ঈদ দুটো বিপরীত গুনাত্মক কাজ। রমজান একটা শর্ত, আর ঈদ শর্ত পালনের পুরস্কার। ত্যাগের পুরস্কার যেমন ভোগ, রমজানের পুরস্কারও তেমনি ঈদুল ফিতর। আমরা আজ দুটোকে এক করে ফেলেছি। ফলে মুসলমান সমাজে যে আনন্দোৎসব আছে, মুসলমানরা যে আনন্দ করতে জানে সেকথা মনেই হয়না। আমরা এবাদত আর উৎসবকে এককরে ফেলেছি বলেই, আমাদের উৎসবের এক্সপ্রেশনগুলো দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। হাসবো কি হাসবোনা এরকম একটা ভাব। ইসলাম যেন হাসতে বা উল্লাস প্রকাশ করতে নিষেধ করেছে।

এর পেছনে অবশ্য একটা ইতিহাস আছে। পলাশীর দূর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর, রাজার জাত মুসলমানরা একদিনে ভিখারীর জাতে পরিনত হয়েছিল। ইঙ্গ-হিন্দু শোষণ নিপীড়নে তারা শধু যে অর্থনৈতিক ভাবে ভিখারী হয়েছিল তাই নয়, সাংস্কৃতিক দিকথেকে, এমনকি সামাজিক আনন্দ উৎসব থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তাছাড়া স্বাধীনতা হারা নির্যাতিত মুসলমানরা দু’শ বছর ধরে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে নিয়োজিত থাকার সময় সকল আনন্দ উল্লাস বর্জন করে পিউরিটানিস্ট সাজতে বাধ্য হয়েছিল। যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের নেতৃবৃন্দ নির্দেশ দিয়েছিলেন, আনন্দ উল্লাস বন্ধকর। সংগীত থিয়েটার কৌতুক খেলাধুলা হারাম জ্ঞানে পরিত্যাগ কর। ঈদ উৎসব এবাদত আর মোনাজাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে সংক্ষিপ্ত কর। কিন্তু সেতো ছিল জেহাদের ময়দানের নির্দেশ। সময়ের পরিবর্তন হল কিন্তু বাংলার মুসলমানদের পিউরিটানিস্ট মনোবৃত্তির আর পরিবর্তন হলনা।

যে মুসলমানরা উপমহাদেশে তওহিদের অমিয় বানীর সাথে বয়ে এনেছিল ইমন পুরবী সোহানা সাজগিরির সুমধুর সুররাজি, যে মুসলমানরা উপমহাদেশের উলঙ্গ মানুষদের কাপড়পরা শিখিয়েছিল, উন্নত ফ্যাশান শিখিয়েছিল, সুস্বাদু রান্না শিখিয়েছিল, কুস্তি, বল, অসিচালনা, তীরন্দাজী, বাঘের সাথে যুদ্ধ, ঘোড়দৌড়, হাইজাম্প, লং জাম্প, দাবা প্রভৃতি অসংখ্য খেলাধূলার প্রচলন করেছিল, তাদের জীবনথেকে আনন্দ উৎসবের সকল উপকরন মুছেগিয়ে পড়ে রইল শুধু কৃচ্ছসাধনের কথা, পরকালের কথা। মুসলমানরা সেই অতীত থেকে আর ফিরে আসতে পারলনা। মানুষ হাসতে পারলে মন ছুটি পায়। নতুন নতুন চিন্তা করতে পারে। উদ্ভাবনী শক্তি ফিরে পায়, এসব কথা বাংলাদেশের মুসলমানরা ভুলে গেল।

আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করে যেমন তার পানাহারের চাহিদা দিয়েছেন, তেমনি দিয়েছেন আনন্দ স্ফূর্তি, উৎফুল্ল চিন্তা, হাসি তামাশা খেলাধূলা করার প্রকৃতিগত ভাবধারা। ইসলাম মানুষকে ফেরেস্তা মনে করে কর্মবিধান দেয়নি যে তারা সর্বক্ষন এবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকবে। ইসলাম মানুষকে দুনিয়ার বুকে, হাটে মাঠে ঘাটে দুঃখদূর্দশায় বিচরনকারি মানুষ হিসাবেই দেখতে চেয়েছে। আমাদের প্রিয় রাসূল (সাঃ) ফুল ভালবাসতেন, সুঘ্রাণ পছন্দ করতেন, সেই সময়ের সবচেয়ে মূল্যমান কাপড়টি পরতেন, হাসতেন, হাসাতেন, ঠাট্টা-রসিকতা করতেন, আনন্দ স্ফূর্তি হাসি খুশি থাকা পছন্দ করতেন। তিনি দুখঃ কষ্ট খারাবি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে  ইসলাম আন্দস্ফূর্তির পরিপন্থী কোন ধর্ম নয়। আনন্দপ্রকাশকরা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। তাহলে আমাদের ঈদ এত ম্রিয়মান কেন হবে। ঈদ কি শুধুই দান, খয়রাত, ফিতরা দুরাকাত নামাজ, খুতবা, জাকাতের কাপড় বিলি প্রদর্শনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ঈদ মানে কি নতুন কাপড় পরে পুরুষরা ঈদগাহে যাবে, নারীরা রান্নাঘরে বন্দীথেকে তাদের জন্য খাবার বানাবে, পুরুষরা ফিরে এসে একপেট সেমাই ফিরনি গোশত পোলাও খেয়ে আইঠাই করে বিছানায় গা এলিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে? অথবা বোকারবাস্ক নামক টেলিভিশনটার সামনে বসে মুসলিমদের ইমান আকিদা ধংসকারি কিছু অনুষ্ঠান উপভোগ করে দুধের স্বাদ বিষপানে মেটাবে? এই কি ঈদ সংস্কৃতির চেহারা?

ইতিহাস বলছে, বদর যুদ্ধে আবু জেহেলের ১০০০ সৈন্যের বিরূদ্ধে রাসূল (সাঃ) এর সিয়াম পালন রত মাত্র ৩০০ সৈন্য বিজয় অর্জনের পর, ঐ বছর অর্থাৎ দ্বীতিয় হিজরির শওয়াল মাসে, যুদ্ধজয়ের আনন্দ হিসাবে প্রথম ঈদ উৎসব পালন করেছিলেন। মুসলমানদের বিজয়উৎসব হিসাবে যে ঈদের শুরু তা আজ এত নিষ্প্রান কেন? উৎসবে আনন্দের শিহরণ কই? হৃদয়ের গভীরে রেখাপাতকারী, বৈদগ্ধে উজ্জল সাংস্কৃতিক রূপরেখা কই? বাহারীস্তান-ই গায়বীর লেখক মির্জানাথন ১৫-১৬ শতকের ঈদউৎসবের বর্ননা দিয়ে লিখেছেন, ‘দিনের শেষে সন্ধ্যা সমাগমে নতুন চাঁদ দেখাদেয়ার সঙ্গেসঙ্গে রাজকীয় নাকাড়া বেজে উঠতো, গোলন্দাজ সেনাদলের কামান থেকে সারারাত ক্রমাগত তোপ দাগানো হত, এগুলো ছিল দস্তুরমত ভূমিকম্পের মত। দু তিনদিন ধরে ঈদের উৎসব চলতো, সংগীত নৃত্য পরিবেশনেরও ব্যবস্থা থাকতো”। অতদূর যাওয়ার দরকার কি, এইতো বৃটিশদের আমলে ৪০ দশকের দিকে কলকাতা শহর রঙীন কাগজের ফ্লাগে, ঝালরে আর আলোকমালায়  বর্নীল সাজে সেজে উঠতো। গড়ের মাঠে ঈদজমায়েত দেখার জন্য, এবং ছবি তোলার জন্য পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে সাংবাদিক, পর্যটকরা ছুটে আসতো। সেদিনের ঈদগাহগুলো আজকের মত অন্ধ, খঞ্জ, এতিম মিসকিন ভিখারীদের একজিবিশন কেন্দ্র ছিলনা। সেদিনের ঈদকে প্রকৃত জাতীয় উৎসব মনে হত।

উপমহাদেশের মুসলমানরা জীবন্ত  ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির অধিকারি। এ কোন পৌরানিক কাহিনী বা মিথ নয়। মুসলমানদের তো কোন মুশরিক সংস্কৃতির কাছে হাত পাতার কথা নয়। আজ দেখি মুসলমানরা মাটির শানকিতে পচা পান্তা ইলিশ খেয়ে আপন উৎসবের গৌরব বোধ করছে। হায়রে অন্ধ মুসলমান! অথচ মুসলমানরাই এদেশের মানুষকে উত্তম ও সুস্বাদু রন্ধন প্রনালী শিখিয়েছিল। নকশা করা প্লেটে, রুচিশীল ভাবে খাদ্য পরিবেশন করা মুসলমানরাই এদেশের মানুষকে শিখিয়েছিল। কাচ্চি বিরিয়ানী, মোরগপোলাও, তেহারী পোলাও, কাশ্মিরী পোলাও, হালিম, চৌকাপারাঠা, মোগলাই পারাঠা, খাস্তা পারাঠা, কিমাপারাঠা, নেহারী, শাহী রেজালা, গোশতের কোপ্তা, চাঁপ, কোরমা, শাহীকাবাব, টিকিয়া কাবাব, বটিকাবাব, শিক কাবাব, তন্দুরীমোরগ, মোরগ-মোসাল্লাম, বাখরখানি, পনিরতেক্কা, বোরহানি, গ্লাসি, নুনিয়া, বউখুদী, দুধচিতই, ফিরনী, সেমাই, কুলফী ফালুদা, পিঠা, চৈপিঠা, চাটনি, আচার প্রভৃতি মুখরোচক খাবার তো মুসলমানদের অবদান। আজকের পান্তা-ইলিশ ও চাইনিজ খাবারের মানসিকতায় মুসলমানদের ঐতিহ্যময় রন্ধন সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। ঈদউৎসব উপলক্ষে মুসলিম খাদ্যমেলার আয়োজন করা কি দূরুহ ব্যাপার!

পাশ্চাত্য ও পড়শী মুশরিকদের কাছ থেকে ধার করা ফ্যাশন আমাদের ললনাদের পোষাকের নামে উলঙ্গ হতে শেখাচ্ছে। অথচ মুসলমানরাই প্রথম পৃথিবীর মানুষকে পোষাক ও উত্তম পরিচ্ছদ পরে নিজের আকৃতি সুন্দর করতে শিখিয়েছে। আলকোরানে বলা হয়েছ, ‘হে আদম সন্তান আমি তোমাদের জন্য পোশাক পরিচ্ছদ নাজেল করেছি যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করবে এবং ভূষণও’ (সুরা আরাফ)। বাংলাদেশের মানুষ হয়তো ভুলে গেছে যে, মুসলমানরা আসার আগে এদেশের মানুষ সেলাইকরা কাপড়ের ব্যবহার জানতনা। বাঙালী সংস্কৃতির পীঠস্থান নামে পরিচিত জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ীর পুরুষ মহিলাদের জন্য উনিশ শতকেও কোন উত্তম পোষাক ছিলনা। মেয়েরা ভদ্রচিত পোষাকের অভাবে বাইরে বেরুতে পারতনা। রামমোহন বঙ্কিম রবীন্দ্রনাথ কে যে ভদ্রপোষাকে দেখা যায় সেটা ছিল মুসলমানি পোষাক। চোগা, চাপকান শেরওয়ানি পিরান টুপী পাগড়ী ইত্যাদি। মুসলমানরাই এদেশের ফ্যাশান সংস্কৃতির উদ্ভাবক। সুতরাং ঈদ উৎসব উপলক্ষে মুসলিম ফ্যাশন শো, বা মুসলিম পোষাক, কামিজ, কুর্তা, চোগা চাপকান পান্জাবী, আচকান, শেরওয়ানী, পিরান, টুপী-পাগড়ী, ব্লাউজ, চোলী, খিলকা, পেশওয়াজ, দোপাট্টা, বোরখা, ঘাগরা, ঝুলা, চোলিকা, লুঙ্গী, তহবন, মেরজাই, শার্ট, বেনিয়ান প্রভৃতির একজিবিশন করা যেতে পারে।

আমাদের নাট্যকারগন ঈদের নাটকের প্লট খুঁজে পাননা। তারা ঈদের নাটক লিখতে গিয়ে, মুসলমান চোরাকারবারি, ভেজালকারি, নয়তো টিনএজ লাভ নামক অবৈধ প্রেমের কাহিনীকে ঈদের নাটক নাম দিয়ে প্রচার করেন। অথচ মুসলমানদের ঐতিহ্যে লালিত রয়েছে কত বৈচিত্রময় নাটকীয় প্লট। যেমন ইব্রাহিমের স্বপ্ন, রাসূল সাঃ এর নবুয়ত প্রাপ্তি, মক্কাবিজয় থেকে শুরু করে, হজরত ওমরের ন্যায়পরায়নতা, হজরত আলির বিচার বুদ্ধি, হাসান-হোসায়েনের আত্মত্যাগ, মা ফাতেমার সাহিত্যনুরাগ, সহ আজকের ফিলিস্তিন, বসনিয়া, সহ হাজার হাজার ঘটনাকে উপজীব্য করে রূপক আকারের অনেক জীবন ঘনিষ্ট নাটক বা নৃত্যনাট্য নির্মান করাযায়। সংগীতে পরমুখাপেক্ষীতা দূর করার জন্য মুসলমানের সমৃদ্ধ ক্লাসিক্যাল সংগীত, বাংলাদেশের ফোক, সুফী সংগীত, নজরুল সংগীতের অনুষ্ঠান করা যায়। তারজন্য প্রয়োজন নাট্যসংগীত স্পৃহা, সজাত্য প্রেম, উদ্ভাবনী শক্তি, এবং কারিগরি জ্ঞান। যা সুশিক্ষিত নেতৃত্ব এবং পৃষ্টপোষকতার অভাবে তলানীতে এসে ঠেকেছে।

ঈদকে আনন্দরসের আবেহায়াতে সঞ্জীবিত করে অপসংস্কৃতির মূলচ্ছেদ করতে হলে সমাজের তরুন সংস্কৃতি কর্মীদের কঠিন ব্রত নিয়ে কাজ করতে হবে। নিজে শিখতে হবে অপরকে শেখাতে হবে।মুসলমানদের ধর্মই হল তার সংস্কৃতির উর্বর ক্ষেত্র। ধর্মের গোঁড়ামির কারনেও আমাদের সংস্কৃতির উজ্জল অর্জনগুলো আজ অবলুপ্ত হতে বসেছ। ঈদকে রোজা ভাবলে চলবেনা। ঈদকে উৎসবে সাজিয়ে, অসুস্থ সংস্কৃতির বিরূদ্ধে ইসলামের সুস্থ সংস্কৃতির অন্তরচারী সুষম প্রানধারা বিভাসিত করতে হবে। তবেই আমরা রাসূল সাঃ প্রতিষ্ঠিত ঈদ বিজয় উৎসবকে সার্থক ঈদ উৎসবে পরিনত করতে পারব।

লেখক: কলামিস্ট, বুদ্ধিজীবী ও প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

Leave a Reply