সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

আসন ভাগাভাগির নির্বাচন প্রতিহত করা হবে: বিএনপি

, ,

নিজস্ব প্রতিনিধি

আগামীতে আসন ভাগাভাগির রাজনীতি ও  নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা। নেতারা বলেছেন, আসন ভাগাভাগির নির্বাচনের চেষ্টা করা হলে পা ভাগ করে দেওয়া হবে। একই সাথে আঘাত আসলে পাল্টা আঘাতের হুশিয়ারিও দিয়েছেন নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১২ই মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির সিনিয়র নেতারা এই হুশিয়ারি দিয়েছেন।

দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হকের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদসহ দলটির নির্বাহী কমিটি ও ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মির্জা আব্বাসের বক্তব্যে আসন ভাগাভাগির নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিপুল করতালি দিয়ে বক্তব্যের সমর্থন জানান।

বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশের একাংশ
ছবি-প্রতিনিধি

মির্জা আব্বাস বলেন, প্রতিবেশী ও বাংলাদেশ সরকারের কতিপয় লোক ফেরি করে বেড়াচ্ছে কাকে কয়টা আসন দিয়ে নির্বাচনে নেওয়া হবে। এ অধিকার কে দিয়েছে? আসন বণ্টনের নির্বাচনে যারা অংশ নিতে চাইবে তাদেরকে ‘দলাল’ হিসাবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যারা সরকারের ফাঁদে পা দেবে, তাদের প্রতিহত করতে হবে। এসময় দালালদের ধরার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, আসন ভাগ করছেন। ১০০ আসন এবং ৭০ আসন। যারা আসন ভাগ করছেন, আমরা আপনাদের পা ভাগ করে দেব। আসন ভাগের নির্বাচন বাংলাদেশে হবে না। কোনো আঁতাতের নির্বাচন বাংলাদেশে হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, আমাদের ওপর হামলা-জুলুম হলে, আমরাও প্রতিহত করতে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ব। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। আর যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে, এই প্রতিরোধ ও প্রত্যাঘাতের মাধ্যমেই আমরা এই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাব।

দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হলে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আরও বলেন, বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হবে না। এ কথার পরই খন্দকার মোশাররফের বাড়িতে হামলা করা হলো, রেদোয়ানের গাড়িতে হামলা হলো। এতে বোঝা যায়, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেউ প্রধানমন্ত্রীর কথা শোনেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে, কুমিল্লায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদের গাড়িতে এবং ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীনের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদ জানানো হয় এ সমাবেশ থেকে।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে যারা হামলা করেছিল, তারা উত্তম-মধ্যম খেয়ে ফেরত এসেছে। প্রতিরোধ শুরু হয়ে গেছে। এখন থেকে প্রত্যাঘাত করতে হবে।

ধোঁকাবাজির জিডিপির প্রসঙ্গে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, দেশে মাথাপিছু আয় নাকি বেড়েছে ২ হাজার ৮৮২ টাকা । কার যে মাথাপিছু আয় বেড়েছে- তা আমি জানি না। কিন্তু আওয়ামী লীগের যে মাথাপিছু আয় বেড়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর যে বাচ্চাটা মায়ের পেটে আছে, তার মাথায় লোন হচ্ছে ৪৯২ ডলার!

আর প্রতিবাদ নয়, হামলার বদলে হামলা:

একই সমাবেশে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অনির্বাচিত সরকারকে ছাড় দেয়ার সময় নাই। জীবন রক্ষার অধিকার আমাদের আছে, আমরা যা করি তার সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে করে থাকি। মিটিং-মিছিল হরতাল করার মৌলিক অধিকার আমাদের আছে।

তিনি বলেন, আর কোনো প্রতিবাদ নয়, হামলা হলে প্রতিরোধ নয়। হামলার বদলে হামলা, আঘাতের পর আঘাত করা হবে। পোশাকে কিংবা সিভিলে যারাই আমাদের উপর হামলা করবে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা, পাল্টা আঘাত করে প্রতিরোধ করব। কাউকে ছাড় দেয়ার সময় নাই।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে গয়েশ্বর বলেন, যারা রাজপথের আন্দোলনে আছেন। তারা টেলিভিশনে ছবি তোলা বন্ধ করেন। সরকার পতনে ঐক্যবদ্ধভাবে সবকিছু মোকাবিলা করতে হবে। এখন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়।

বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর আওয়ামী সন্ত্রাসী হামলার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এ হামলা পরিকল্পিত। আমরা শুধু মার খাবো সেই দিন শেষ। এই সরকার ও সংসদ রেখে কোনো নির্বাচন এদেশে হবে না। আমরা যদি নির্বাচনে না যাই তাহলে কার সাথে খেলবেন?

তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা সরকারের অবস্থা থেকেও যদি বর্তমান সরকারের শিক্ষা না হয়, তাহলে বুঝতে হবে তাদের পরিণতিও ভয়াবহ হতে পারে। আমরা তাদের পরিণতি এরকম হোক তা চাই না। আমরা চাই, তারা ভালোভাবে প্রস্থান করুক। পদত্যাগ করুন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।

গয়েশ্বর বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাদের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বলেছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশে বাধা দেয়া হবে না। ঠিক তার পরের দিনই বিএনপি’র সিনিয়র নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাসভবনে হামলা চালানো হয়।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেখতে পেলাম, দেশি-বিদেশি নয়, প্রতিবেশী ও এদেশের সরকার আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন বণ্টনের ফেরি করে বেড়াচ্ছে! তাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই আসন বণ্টন করার অধিকার আপনাদেরকে কে দিয়েছে?

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যখন সরকার গঠিত হবে তখন সবকিছু বিচার করা হবে। এখন লড়াই করব, মরবো, সরকার পতন নিশ্চিত করবো, বিজয় অতি নিকটে।

গয়েশ্বর বলেন, ‘যারা এ সরকারের নির্বাচনী ফাঁদে পা দিবে তাদের ঘেরাও করতে হবে, সব সময় নজরে রাখতে হবে। কেউ এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না’।

 

Leave a Reply