সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

ইবলীসের প্রেতাত্মারা- পঞ্চম পর্ব

, ,

হাছান বসরি

এপিসোডঃ চেতনা, আহা চেতনা

আসমানের ঠাডা থেকে প্রোটেকশনের ব্যবস্থা হিসেবে আজব রানী ষষ্ঠ ধাতু নির্মিত অনেকগুলো ত্রিশূল উপহার পেয়েছে পাশের রাজ্য থেকে। রানীর সিংহাসনের দু’পাশে এক জোড়া  ত্রিশূল শক্ত করে বাঁধা।  শুধু তাই নয়, আজব রানী যখন প্রাসাদের বাইরে যায়, তখন এই হেকমতি ত্রিশূল গুলি রানীর চারপাশে যারা বহন করে সেইসব রক্ষীরাও এসেছে পাশের রাজ্য থেকে।

আজব রানীর রাজ্যে সৈন্য সামন্তের অভাব নাই। কিন্তু রানী স্বপ্নেও কোন দিন ভুলতে পারে না যে এই হারামখোর সৈন্যরাই তার আব্বাজানকে নির্মম ভাবে কতল করেছিল।

প্রতিশোধ নেয়ার মওকা খুঁজছিল রানী। ইবলীসের সাথে প্রথম মোলাকাতের কয়েক মাসের মধ্যে সেই সুযোগ এসেও গেলো।  রাজ্যে তিলখানা নামের এক সেনা ব্যারাক আছে। সেখানে ডাল রুটির ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে একবার দেখা দিল বিদ্রোহ।

ডাল রুটির ব্যাপারটা আসলে চক্ষু ধোলাই- অন্তরালে ছিল ইবলীসের সুপারি। সাতান্ন জন বাঘা বাঘা নওজোয়ান বলির মধ্য দিয়ে ইতি ঘটলো রক্তাক্ত সে বিদ্রোহের। স্তিমিত হলো রানীর জিঘাংসার আগুণ কিঞ্চিৎ। পাশাপাশি সৈন্য বাহিনীকে ঘিরে বড় খৎনা কার্যটি খুব দক্ষতার সাথে সেরে ফেলল।  আর সেই সাথে অমরত্বের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলো সে।

কাগজে কলমে এদের নামের আগে পিছে এখনও পাইক,পেয়াদা, তীরন্দাজ, বরকন্দাজ, ওলন্দাজ, গোলন্দাজ, অশ্বারোহী, হস্তারোহী সহ নানা কিসিমের বাঘা বাঘা পদ-পদবি লেপ্টে-জাপটে আছে। কিন্তু আদতে আজব রানীর সৈন্য বাহিনী এখন নেংটি ইঁদুর বাহিনী।  তারপরও আজব রানী ওদের এক রত্তি বিশ্বাস করে না। পাশের রাজ্যের পাইক পেয়াদারা অনেক বেশি বিশ্বাসী।

সেনাবাহিনীর উপর রানীর যতটা না অ্যালার্জি তারচেয়ে ঢের বেশি অ্যালার্জি হুজুর বাহিনীর উপর। মোল্লা গুলি সব জাত চেতনা বিরোধী। তাছাড়া আজব রানী যে একজন সাচ্চা মুনাফেক, তা এ রাজ্যের না-লায়েক মোল্লারা আকারে ইংগিতে সব সময়ই বুঝিয়ে থাকে। নাদান প্রজারা আবার মোল্লাদের সাথে ঠিক ঠিক করে সাঁয় দেয়।

মাথায় কালো পট্টি বাঁধা, তসবিহ হাতে ঘোরা ফেরা করা, ছোট হজ্জ, বড় হজ্জ, মসজিদ, মাজার, দরগা, গাউস, কুতুব, পীর, আউলিয়া- এমন কোন মত-পথ-তরিকা নাই যে আজব রানী প্রয়োগ করে নাই। এতে ক্ষেত্র বিশেষ কাজ হলেও, আখেরে যে লাউ সেই কদু।

হুজুরদের উপর ব্যক্তিগত অ্যালার্জি থাকলেও, কোন বড় বিপদ আসার সম্ভাবনা দেখছিল না রানী। কিন্তু পাশের রাজ্যের কাছে হুজুররা বিরাট বড় চুলকানির কারণ- দশ নাম্বার আসন্ন মহা বিপদ সংকেত। যথারীতি তাই হুজুরদের খৎনা কার্য সম্পন্ন করার ব্যবস্থাপত্র তৈরি হয়ে গেলো।

অর্ধডজন খানেক চেতনা বিরোধী হুজুরদের রাজ কাজীর সমীপে হাজির করা হলো। অভিযোগ খুন, বলৎকার, লুটপাট আরও কত কি। প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের ঘটনা। কিন্তু তাতে কি? ন্যায় বিচার কায়েমে আজব রানী আপসহীন। আজব রানীর বিচারশালায় তাই সাক্ষী সাবুত, উকিল-মোক্তার, হাকিম-হুকুম সব প্রস্তুত।

নগরীর আহাভাগ চত্বরে চেতনাজীবীরা চেতনার ঝাণ্ডা উড়িয়ে জানান দিতে থাকল- বিচার চাই, বিচার চাই। নাচ, গান, পান, মুর্গি-মসল্লাম, সাথে স্লোগান- চলল দিনরাত হরদম।

চেতনা বিরোধীদের ঠাই, আজব রানীর রাজ্যে নাই। এরা আব্বার চক্ষু শুল, এরা রানীর চক্ষু শুল, এরা মিত্র রাজ্যের চক্ষু শুল। এদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার থাকতে পারে না। আর তাই কাজীর নির্ভুল বিচারে আসামীদের ঠিকানা হলো ‘শূল’।

ওদিকে নগরীর আরেক প্রান্ত- পদ্ম চত্বরে জিকির করতে করতে হাজির হল হাজার হাজার নিরীহ হুজুর। দাবি তাঁদের এক না- অনেক। রাত তখন গভীর। পদ্ম চত্বরে ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, পরিশ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল বেচারারা।

ঠিক সেই সময়, খাস কামরায় একাগ্র চিত্তে ধ্যান করছিল আজব রানী। হঠাৎ মস্তিষ্কের নিউরনে টুং টুং ঘন্টা বেজে উঠল। এসে গেছে, এসে গেছে- ইবলীসের দিক নির্দেশনা এসে গেছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে, মুচকি হেসে ধ্যান থেকে উঠে হুঙ্কার দিয়ে উঠল রানী- এই কে আছিস?

পেয়াদা প্রধান তেনজির, আর প্রধান চৌকিদার আজিরের নেতৃত্বে আজব রানীর বিশেষ বাহিনী রাতের আঁধারে ঝাঁপিয়ে পড়ল ঘুমন্ত প্রজাদের উপর। শত শত নিরীহ দাঁড়ি টুপি ওয়ালা আদম সন্তানের রক্তে রঞ্জিত হলো পদ্ম চত্বর।

হুজুরদের খৎনা কার্য সম্পন্ন করার পর থেকে রাজ্য জুড়ে চেতনা শিল্পে ঘটল কাঙ্ক্ষিত রেনেসাঁ। আজব রানীর দরবারে সারিবদ্ধ মানুষ আসতে লাগল স্বেচ্ছা খৎনা বরণ করতে। কাঁধে  তাদের থলে বোঝাই চেতনা, বক্ষে জড়ানো আব্বা কোট, কন্ঠে আজব রানীর জয়গান।

জ্ঞানী, গুণী, পাঁজি, কাজি, পণ্ডিত, মূর্খ, আমীর, গরীব, ডাক্তার, বৈদ্য, পাইক, পেয়াদা, কৃষক, শ্রমিক, আমলা, কামলা, সেই সাথে ক্ষমতা চ্যুত সাবেক রাজা খালেদের অনুসারীরা দলে দলে সব স্বেচ্ছায় মুণ্ডিত হয়ে আজব রানীর অশেষ কৃপার অংশীদার হতে লাগল। ওরা সবাই চেতনার ফেরিওয়ালা।

চলবে…

Leave a Reply