সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

ইবলীসের প্রেতাত্মারা

, ,

-চতুর্থ পর্ব

হাছান বসরি

এপিসোড- ইবলীসের আগমন-২

মহারাজ ! আমি আপনার ভৃত্য, আপনার মুরিদাইন- আমাকে নসিহত দান করুন হুজুর।

আমার নসিহত তিনটিঃ

এক- সদা মিথ্যা বলিবে।

দুই- কখনই সত্য বলিবে না।

তিন- একই মিথ্যার পুনরাবৃত্তি করিতে থাকিবে, যতক্ষণ না তাহা সত্যে রুপান্তরিত হয়।

এ কী নসিহত করলেন জনাব? এ যে আমারই…..

আমি জানি রানী। এই তিনটি গুণই তোর মাঝে অতি বিদ্যমান। তোকে নসিহত দেবার মত আমার কাছে অবশিষ্ট কিছু নেই। বরং তোকে আমি একটা উপাধি দিই, কি বলিস?

দিন মহারাজ দিন। এ জীবনে অনেক উপাধি আমি পেয়েছি। কিনেও এনেছি অনেক পদবী-উপাধি। কিন্তু আপনার দেয়া উপাধি হবে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপাধি, আমার মাথার তাজ।

আজ থেকে তোর নতুন উপাধি দিলাম ‘মিথ্যা রানী দাস’। আমি তুষ্ট, আমি প্রীত, আমি অভিভূত।

বল তুই আমার কাছে কী বর চাস?

আপনার কাছ থেকে এত বড় একটা সত্যায়ন পেয়ে আমি ধন্য জাহাঁপনা। আমাকে অমরত্ব বর দান করুন মালিক।

রানীর আবদার শুনে কয়েক কদম পিছিয়ে যায় ইবলীস।

ওরে পাগলী তা হবার নয়। অমরত্ব বর তো একমাত্র আমার।

কেন নয় মহারাজ? মা-বাপহীন এতিম এক আশেকান আমি আপনার। কি নির্মম, আর নির্দয় ভাবে ওরা আমার…..। কেয়ামত পর্যন্ত প্রজাদের হাড় গোর চিবিয়ে ছ্যাবরা বানায়ে ফ্যালবো আমি। প্রতিশোধ, প্রতিশোধ, শুধুই প্রতিশোধ। আমাকে অমরত্ব বর দিন মালিক, প্লীজ।

এই দেখ, আবার কান্না কেন? শয়তান হলেও আমার দিলটা ভীষণ মোলায়েম। তোর নয়নের অশ্রু জল, আবার সেই নয়নে জিঘাংসার আগুন!  আমাকে বড্ড মুশকিলে ফেলে দিলি রে তুই পাগলী।

কোনো মুশকিল না ইবলীস মহারাজ। যত মুশকিল ততো আসান, বলেছেন আমার আব্বাজান।

ভেরি ইন্টারেস্টিং। একটু খুলে বল তো, কি বলতে চাইছিস?

মহারাজ, এই যে আপনি ইবলীস হয়েও সৌম্যকান্ত এক পুরুষের বেশ ধরে আছেন তাই না?

তা’তো আছি।

 Why not সুদর্শনা, সুললনার রূপ?

বাত সহীহ, অবশ্যই পাড়ি। কিন্তু পুরুষের বেশ ধরে আছি তাতেই ত্রাহি মধুসূদন! আর ললনার বেশ ধরলে,  ছি ছি ছি, ইজ্জত কি সাওয়াল! তোর রাজ্যের সব নদী নালা তো শুকিয়ে কাঠ। গলায় কলশি বেঁধে আয়েশ করে যে আত্মহত্যা করবো, সে পথও খোলা নেই।

আরে না না হুজুর, আপনি সহজ ব্যপারটা বুঝতে পারছেন না।

‘সহজ কথাটি বুঝি না সহজে, ঘোর প্যাঁচ খায় মোর ডিজিটাল মগজে’। হে হে হে, আমার কবিতা না, রবীন্দ্রনাথকে প্যারোডি মারলাম আর কি। তবে বাস্তব হচ্ছে- অতি মাত্রায় ডিজিটালাইজড হওয়ায় আমার তাগুতি বুদ্ধি তামাদি হওয়ার পথে প্রায়, বুজেছিস?

খুব সহজ করে বলি তাহলে। আপনি আমার বেশ ধারণ করেন ইবলীস স্যার। কেউ আপনাকে touch টি পর্যন্ত করবে না- মানি ব্যাক গ্যারান্টি। আপনারও যেমন গতি, আমারও তেমনি গতি, কেয়ামত পর্যন্ত।

LOL!

কি বললেন মহারাজ? বুঝলাম না যে?

Laugh Out Loud. হো হো হো। নেটিজেন ভাষা তুই বুঝবি না। তবে তোর বুদ্ধির তা’রিফ না করে পারছি না। কথাটা বলে ইবলীস ঘরময় পায়চারী করতে শুরু করলো।

ইবলীসের হাত ধরে স্বর্ন নির্মিত আরাম কেদারায় বসিয়ে দিয়ে রানী বলল, এতো কি ভাবছেন হুজুর? কবুল বলে ফেলেন।

দাঁড়া দাঁড়া, ভাবতে দে। বুদ্ধির গোঁড়ায় একটু ধোঁয়া দিতে পাড়লে মন্দ হতো না। একটা সিগারেট হবে নাকি তোর কাছে?

ধূমপানের অভ্যাস নাই। তবে হুজুরের আজ্ঞা হলে এক বোতল ডাইল ম্যানেজ করতে পাড়ি। অথবা দুই এক বড়ি ‘বাবা’…..

ওয়াক থু, ডাইল আজকাল কেউ খায় নাকি? আরেকটা কী জানি বললি, মারহাবা?

মারহাবা না হুজুর, ইয়াবা, মগের মুল্লুক থেকে আমার লোকজন আমদানী করে। আমার রাজ্যে এর ডাক নাম ‘বাবা’।  আমার কাছে আছে গন্ডা খানেক। ট্রাই করবেন নাকি একটু?

সে কি রে, তুই এ জিনিস কবে থেকে ধরলি?

আপনার ইজ্জতের কসম, আপনি যা ভাবছেন তা’ নয় হুজুর। ঘটনাটা তাহলে খুলেই বলি। হয়েছে কি, আমার পাইক, পেয়াদা, গোয়েন্দারা ইয়াবা সাথে নিয়েই ঘোরে। যখন দরকার পড়ে প্রজাদের পকেটে চালান দিয়ে, দেয় মাদকের মামলা ঠুকে। তো গেলো সপ্তায় গেলাম তাদের কুচকাউয়াজে। কি সর্বনাশ, ঘরে এসে দেখি আমার ভ্যানিটি ব্যাগে এক পুড়িয়া বাবা! যে ইবলীসের বাচ্চা কাজটা করেছে, ধরতে পাড়লে….

হো হো, বাপের ব্যাটা বলতে হবে। আয়, নিয়ে আয়, একটু চেখে দেখি।

তোষোকের তলা থেকে এক হালি ইয়াবা বড়ি ইবলীসের সামনে রাখলো রানী। বাবা সেবন করে ঝিম মেরে আধ-ঘন্টা খানেক বসে রইলো ইবলীস। তারপর হঠাত বলে উঠল, ইউরেকা, ইউরেকা। উপায় একটা পেয়েছি। কিন্তু….

আবার কিন্তু কি, ইওর হাইনেস?

অমরত্ব বর তো আর তোর ওই বটিকা না। আহা যা জিনিস খাওয়ালি রানী, মাইরী। কি যেনো নাম বললি- মারহাবা?

না না হুজুর, বাবা।

ও হ্যা, বাবা- বাবারে বাবা, মারহাবা, মারহাবা। তা যা বলছিলাম। অমরত্ব অনেক সাধ্য সাধনার ব্যাপার। তুই কি পারবি?

মখমলের কার্পেটে হাঁটু গেঁড়ে বসে ইবলীসের পদ যুগল টিপতে টিপতে রানী বললো, পাড়বো হুজুর পাড়বো। আলবৎ পাড়বো।

শোন তাহলে। আপাতত দুইটা কাজ করতে হবে তোকে। প্রথমত, কালো শেয়ালের আবিষ্কার এই কাঙ্গালী খৎনা কর্মসুচীকে root level-এ নিয়ে যেতে হবে। একেবারে মূল থেকে খৎনা থেরাপি প্রয়োগ করতে হবে।

খৎনা না হয় বুঝলাম, কিন্তু রুট লেভেল, থেরাপি- বুঝলাম না স্যার।

বুঝিয়ে বললেই বুঝবি। তুই যে প্রোগ্রামটা হাতে নিয়েছিস সেটা হচ্ছে ছোট খৎনা?

ঠিক।

আসলে করতে হবে বড় খৎনা,  বুজেছিস?

এবারে বুঝতে পেড়ে খুশিতে ঝলমলিয়ে ওঠে রানী বলল, যো হুকুম আলামপনা। কালকে থেকেই আমার সোনার ছেলেরা মাঠে নামবে। নারী, পুরুষ, আবাল,বৃদ্ধ, বণিতা- সবারটা সাইজ করে দেবানে।

ওরে মুর্খ, ওভাবে না। কাজটা করতে হবে ধীরে, ধীরে, আইস্তা, আইস্তা। স্টেপ বাই স্টেপ, খুব হেকমতের সাথে। সে আমি শিখিয়ে পড়িয়ে নেবোক্ষণ। এবারে দ্বিতীয়টা শোন।

ইবলীসের কাঁধ ম্যাসাজ করতে করতে রানী বলল, হুকুম করেন মহারাজ।

চেতনা শিল্পের নামে নতুন এক ফরমান জারি করতে হবে।  যে ফরমানের মূল মন্ত্র হবে প্রজাদের ডুবন্ত, ঘুমন্ত, এবং নুইয়ে পড়া চেতনাকে আবার নতুন করে সদা জাগ্রত  রাখা। কি পাড়বি না?   

ইবলীসের সামনে শির অবনত করে রানী বলল, আপনার আশীর্বাদের কালো হাত আমার মাথায় একবার শুধু বুলিয়ে দেন মাই লর্ড। দেখেন কি করে চেতনা শিল্পে রেনেসাঁ ঘটায়ে দেই। তবে আমার মনে একটা খুত খুত, একটা প্রশ্ন, যদি অনুমতি দেন।

রানীর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ইবলীস বলল, এত উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে কেনো রে অভাগী? ম্যায় হু না?

আজ্ঞে বলছিলাম, জমিনের সব না হয় সামাল দেওয়া গেলো। কিন্তু যদি ধরেন আসমান থেকে ঠাটা পড়ে- তখন?

হুম! Valid point. বিষয়টা নিয়ে একটু ভাবতে হবে। আমি এখন যাই, আপলোড, ডাউনলোডের সময় হয়ে গেছে।

আপনি কেন কষ্ট করে আপলোড ডাউনলোডের তকলীফ করতে যাবেন? আমাদের আইটিকুমার, মানে আমার পুত্রের কাছে এ কাজটা ছেড়ে দিয়ে আপনি আয়েশ করে বাবা সেবন আর নাক ডেকে নিদ্রা জ্ঞাপন করেন । আমার পুরো খানদান always at your service ইওর  অনার।

ওরে না না, ব্যাপারটা তা’ নয়। আসলে আমার আহার আর মলত্যাগ করার সময় হয়েছে। আপলোড, ডাউনলোড আরকি। আমি যাই রে, বেলা ওঠার পর কিছু খেলে আমার আবার অম্বল হয়। আহা কি জিনিস খাওয়ালিরে রানী।

যাই বলে না আলাম্পনা, বলুন আসি। কিন্তু আপনাকে আপনার এই আশেকাইন কিভাবে খুঁজে পাবে? নাই টেলিফোন, নাইরে ইমেইল, নাইরে ইন্সটাগ্রাম……

মাত কর তু টেনশন রে বান্দি। আহা কি জিনিস খাওয়ালি রানী। আমি তো দিওয়ানা হয়ে গেছি রে।

কার হুজুর?

তোর আর তোর এই রাজ্যের। আজ কি খাওয়ালি, মন রাঙ্গালি, এভাবে সারা জীবন যেন……বিদায় রানী, বিদায়।

আমায় ছেড়ে যাবেন না হুজুর।

এ বিদায় ক্ষণিকের বিদায় মাত্র। আমি আমার দিব্য নয়নে দেখতে পাচ্ছি- আগামী দশ বছরের মধ্যে এ রাজ্য হবে ইবলীসের অভয়ারণ্য। আমার বংশধর দিয়ে সয়লাব করে দেবো রাজ্য-আমার ইজ্জতের কসম। হো হো হো……

এলো মেলো পা ফেলে ভরাট কন্ঠে আবৃত্তি করতে করতে প্রস্থান করছে ইবলীস।

বার বার আসিব ফিরে

আজব রানীর দেশে

এই জংলায়।

নিশ্চিত মানুষ নয়

নিয়ে ডাল রুটির প্রোজেক্ট,

হায়েনার বেশে।

তিলখানার দরকার হলে

খেলিব হোলি খেলা সেনাদের খুনে।

হয়তোবা তেঞ্জির-আজির হবো

গ্রেনেড, বোমা ছুড়িব ডানে বায়

পদ্ম চত্বরে

………

আমায় ফিরে পেতে

যদি মন কভু চাহে

নিশীথে স্মরিও

অতি নিরজনে

আমারে পাবে খুঁজে

মস্তিস্কের নিউরনে।

চলবে………

Leave a Reply