আরও সংবাদ

8 Comments

  1. 1

    শাহীন

    জনাব, আরিফুল হক,

    আপনার এহেন লেখা আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। আমি আপনার একজন পাঁড় ভক্ত। নিয়মিত আপনার লিখা পড়তে চাই। জানতে চাই বিস্মৃত ইতিহাসকে। অশেষ কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ।

    শাহীন।

    Reply
  2. 2

    Masrura AbdurRahman

    আস্সালামু ‘য়ালাইকুম। আমি আপনার লিখার একজন বড় ভক্ত। আপনি জ্ঞানী মানুষ সেইজন্য এখানে কিছু তথ্য দিচ্ছি। ধর্মীয় দৃষ্টিকোনে মিলাদূন্‌ নাবী উদযাপন একটি বিদ্‌য়া (বহুবচন বিদা’) (بِدْعَة – بِدَع)। আর বিদ্‌য়া এমন একটা জিনিষ যেখানে ভাল- বা খারাপ বিদ্‌য়া বলে কিছু নেই অর্থাৎ ইসলামে নতুন ধর্মীয় কিছু (উদ্ভাবন/ Innovation) আনায়ন করাই হচ্ছে বিদা’ (প্রমান: ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নাবীজী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘কেউ আমাদের এ শরী‘আতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত’ — সহীহ বুখারী #২৬৯৭)।

    রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিন পালন করা কি জায়েয?

    প্রথমতঃ লোকেরা রাবি উল আউওয়াল মাসের ১২ তারিখে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্মদিন উদযাপন করে যা সত্য নয়। হাদীথ থেকে আমরা জানি যে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতির বছরের সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময় আরবগণের কাছে ক্যালেন্ডার (দিনপঞ্জিকা) ছিলনা তবে তারা বড় কোন ঘটনা ঘটলে তার নামে বৎসরের নামকরন করতেন যেমন হাতির বছর (عَامُ الفِيل) (সূরাতুল ফীল)। এখন চাঁদের মাসের ক্যালেন্ডারে, হাতির বছরে ও রাবি উল আউওয়াল মাসের সোমবার পড়ে ৯ তারিখে। ১২ তারিখে নয়।

    দ্বিতীয়তঃ ইমাম ইবন কাথীর রাহিমাহুল্লাহ্‌ তাঁর ‘আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, মিলাদূন্‌ নাবী উদযাপন শুরু হয়েছিল ৪০০ হিজ্‌রী সালের পরে এবং প্রথম শুরু হয়েছিল মিশরের ‘ফাতিমিদ’ শাসকদের দ্বারা যারা ‘রাফিদা মাদ্হাব (শিয়া)’ এর অনুসারী। এই শাসক মিশরে অনেক অন্যায় করেছে এবং এই বিদ্‌য়া ‘মিলাদূন্‌ নাবী’ উদ্ভাবন করেছে কারণ তারা দাবি করেছে যে তারা রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আত্মীয়।

    তৃত্বীয়তঃ কেউ কেউ বলেন মিলাদূন্‌ নাবী উদযাপন বিষয়টি পান করা এবং খাওয়ার মতো ব্যাপার অর্থাৎ ধর্মীয় কোন ব্যাপার না । অন্যরা বলেন যেহেতু এটি ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের অনুসরন করছে। তবে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন একজন ধর্মীয় চরিত্র সুতরাং তাঁর জন্মদিনটি একটি ধর্মীয় ঘটনা ফলে মিলাদূন্‌ নাবী উদযাপন হচ্ছে বিদ্‌য়া। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনকালে এবং তাঁর মৃত্যুর পরে কেউ এটি উদযাপন করেনি।

    সর্বশেষঃ কিছু লোক বলেন, আমরা কেবল রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনী (সীরা) পড়ি, তাঁর নাম মনে করি ও আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করি তাঁর সালাত ও সালামের জন্য। এসব করা ঠিক আছে তবে কেবলমাত্র জন্মদিনে করা যায় না। তবে বিষয়টি গুরুতর নয় এবং এই ইস্যুতে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। কেউ কেউ বলেন যে, মিলাদূন্‌ নাবী উদযাপনের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম – কে স্মরণ করার সুযোগ রয়েছে। খুব দরকারী তবে এটি কোনও বিশেষ দিনে নয়, বছরব্যাপী ধরে করা উচিত। تَمَّ بِفَضْلِ ٱللّٰهِ

    Reply
    1. 2.1

      ISLAM

      I believe only Iblis can have problem seeing Eid e Miladunnabi. Eid e Miladunnabi is Bidah e Hasanah. Anything you do for Rasool (SAW) to give Salam and remembrance doesn’t forbidden in Islam. Please don’t follow radical Islam, visit world. Get knowledge.

      Amazing write up for enlighten people.

      Reply
      1. 2.1.1

        Nasim Muhammad

        There is no radical Islam or liberal Islam or moderate Islam but there is only ISLAM which means submitting to the will of Allah obeying and following His Prophet Muhammad (sallallahu alaihi wa sallam). All innovations (bid’a) in Islam are prohibited. To divide bid’a into good and bad is another cunning design of Shaitan. We seek refuge in Allah from the evil design of Shaitan.
        Oh our Lord!, increase our knowledge.

        Reply
  3. 3

    MA Bashar

    বিশিষ্ট নাট্যকার শ্রদ্ধেয় আরিফুল হক সাহেবের ঈদে মিলাদুন্নবীর উপর ভিন্ন আঙ্গিকে লিখা। অনেকের মনের পুষ্টি পাবেন, পাবেন নতুন তথ্য। নিজে পড়ুন, অন্যদের পড়তে দিন। আসুন আমরা মহানবীর প্রদর্শিত পথ চলি ও সুন্দর পৃথিবী গড়ি।

    Reply
  4. 4

    কালাম মীর

    তথ্যবহুল ও শিক্ষণীয় লেখাটির জন্য জনাব আরিফুল হককে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ! আপনার কষ্টের উপলব্ধির সাথে আমিও সমব্যথী! ভেবে কূল পাই না, জ্ঞানকে ধারণ করে কি লাভ যখন দেখি বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন নাই! যখন দেখি অজাত অসভ্যতার নর্তনে কুর্দনে যজ্ঞ-ধোঁয়ায় একটা মুসলিম প্রধান দেশকে তলিয়ে দিচ্ছে ইতরতার অতলে। কি লাভ হবে, কেবলা কা’বার দিকে এক ডিগ্রী এদিক ওদিক হলো কি না তা নিয়ে তুমুল তর্ক করে, যখন দেশ থেকে ইসলাম ধর্মকেই উপড়ে ফেলার আয়োজন চলছে মহৌৎসবে?

    Reply
  5. 5

    দেওয়ান সায়েদুল

    ঈদে মীলাদুন নবী পালনের হুকুম কী?

    উত্তর: প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঠিক জন্ম তারিখ অকাট্যভাবে জানা যায় নি। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আওয়াল মাসের ৯ তারিখে জন্ম গ্রহণ করেন। রবিউল আওয়ালের ১২ তারিখ নয়। সুতরাং ১২ রবিউল আওয়াল ঈদে মীলাদুন নবী পালন করা ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভিত্তিহীন।

    দ্বিতীয়ত: শরী‘আতের দিক থেকে যদি মীলাদ মাহফিল উদযাপন করা সঠিক হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতেন অথবা তাঁর উম্মতকে করতে বলতেন। আর কুরআনে বা হাদীসে অবশ্যই তা সংরক্ষিত থাকতো। আল্লাহ বলেন,

    ﴿إِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا ٱلذِّكۡرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ ٩﴾ [الحجر: ٩]

    “আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতরণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।” [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯]

    যেহেতু মীলাদের বিষয়টি সংরক্ষিত হয় নি, তাই বুঝা গেল যে, মীলাদ মাহফিল উদযাপন করা দীনের কোনো অংশ নয়। আর যা দীনের অংশ নয়, তা দ্বারা আল্লাহর ইবাদাত এবং নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা বৈধ নয়। কীভাবে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারব, আল্লাহ তা বলে দিয়েছেন। তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নিয়ে আসা দীন। বিরাট অপরাধ। আল্লাহর কালামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার শামিল। আল্লাহ বলেন,

    ﴿ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗاۚ﴾ [المائ‍دة: ٣]

    “আজকের দিনে তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের উপর আমার নি‘আমতকে পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসাবে মনোনীত করলাম।” [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৩]

    অতএব, আমরা বলব যে, এ মীলাদ মাহফিল যদি পরিপূর্ণ দীনের অংশ হতো, তাহলে অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পূর্বেই তা বলে যেতেন। আর যদি তাঁর দীনের কোনো অংশ না হয় তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর তা দীনের অংশ হতে পারেনা। যারা বলে মীলাদ মাহফিল পরিপূর্ণ দীনের অংশ, তবে বলতে হবে তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরে শরী‘আতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাহলে এটা হবে আল্লাহর কথাকে মিথ্যা বলার শামিল।

    কোনো সন্দেহ নেই যে, যারা মীলাদ মাহফিল উদযাপন করে, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান এবং ভালোবাসার জন্যই করে থাকে। রাসূলকে ভালোবাসা, তাকে সম্মান করা সবই ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত। শুধু তাই নয়, কোনো মানুষের কাছে যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সন্তান, পিতামাতা এবং দুনিয়ার সমস্ত মানুষ হতে প্রিয় না হয়, তা হলে সে পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত, তাই এর ভিতরে বিদ‘আত তৈরি করা জায়েয নেই। তাছাড়া আমরা শুনতে পাই যে, এ মিলাদ মাহফিলে এমন বড় বড় অপছন্দনীয় কাজ হয়, যা শরী‘আত বা কোনো সুস্থ বিবেকও সমর্থন করে না। এতে এমন এমন কবিতা পাঠ করা হয় যাতে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় খুবই বাড়াবাড়ি। অনেক সময় তাঁকে আল্লাহর চেয়েও বড় মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হয়। আরো দেখা যায় মীলাদ অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে উপস্থিত সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে যায়। তারা বিশ্বাস করে যে মীলাদ মাহফিলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ মোবারক এসে উপস্থিত হন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত থাকাবস্থায় তাঁর সম্মানের জন্য দাঁড়ানো পছন্দ করতেন না। সাহাবীগণও দাঁড়াতেন না। অথচ তারা তাঁকে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসতেন এবং সম্মান করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিতাবস্থায় দাঁড়নো পছন্দ করতেন না। তাহলে কীভাবে তাঁর মৃত্যুর পর এ রকম করা যেতে পারে?

    মীলাদ নামের বিদ‘আতটি সম্মানিত তিন যুগ চলে যাওয়ার পর আবিস্কৃত হয়েছে। এতে রয়েছে এমন কিছু অন্যায় আমল, যা দীনের মৌলিক বিষয়গুলোতে আঘাত হানে। তাতে রয়েছে নারী-পুরুষের একত্রে মেলামেশাসহ অন্যান্য অপকর্ম।

    শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)
    ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম

    Reply
  6. 6

    Abir

    খুব দারুনভাবে প্রকাশ করেছেন অনেক উপকৃতহবে সবাই।ইনশাআল্লাহ

    Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

© স্বত্ব আমার দেশ ২০০৮ – ২০২০