সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

গোলাম মিডিয়াকে না বলুন

, ,

মাহমুদুর রহমান

সংবাদপত্রকে একসময় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হত। ইংরেজি ভাষায় সর্বকালের অন্যতম সেরা প্রবন্ধকার টমাস কারলাইল লিখেছেন, এডমন্ড বার্ক ১৭৮৭ সালে হাউজ অব কমনস এ দর্শক গ্যালারির দিকে তাকিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে সর্বপ্রথম ‘Fourth Estate’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এডমন্ড বার্ক তার যুগের একাধারে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, দার্শনিক এবং রাজনীতিক ছিলেন। বিগত প্রায় আড়াই শতকে পৃথিবী অবশ্য অনেক পাল্টে গেছে। সাংবাদিকদের সেই সম্মান এখন আর নেই। অনেক ক্ষেত্রেই সম্মানহানির জন্য সাংবাদিকদেরই দায় বেশি। তাদের নৈতিকতা যেহেতু নেমে গেছে তাই সাহসেরও অভাব ঘটেছে। স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তো বটেই এমনকি গণতান্ত্রিক দেশসমূহেও মিডিয়া ক্ষমতাসীনদের নির্লজ্জ চাটুকারে পরিণত হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ প্রতিবেশী ভারতের কথাই বলা যেতে পারে। সে দেশের মিডিয়াতে হিন্দুত্ববাদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্ধ দালালি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ব্যঙ্গ করে ভারতেই মোদির নামের সাথে মিলিয়ে এই জাতিয় সংবাদমাধ্যমকে ‘গোদি মিডিয়া’ ডাকা হচ্ছে। গত কয়েকদিনের মধ্যে নরেন্দ্র মোদি ইউরোপ সফর করে এসেছেন। সেই সফরে তিনি জার্মানিতেও গিয়েছিলেন। সেখানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সন্মানে এক পাবলিক রিসেপশনের আয়োজন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতীয় গোদি মিডিয়ার ভাবমূর্তি এতই নীচে নেমেছে যে, মোদির সফরসঙ্গী ভারতীয় মিডিয়াকে ওই অনুষ্ঠানস্হলেই ঢুকতে দেয়া হয় নাই। এনিয়ে সাংবাদিকরা হলের বাইরে স্বয়ং মোদির কাছে সমস্বরে নালিশ জানালে তিনি বেজায় বিব্রত হন। তার মুখ দিয়ে হয়ত অজান্তেই বেরিয়ে আসে, ‘My God’। যার মুখে সর্বদা হিন্দু দেবদেবীর নাম উচ্চারিত হয়, সেই মোদি বিদেশে গিয়ে ‘মাই গড’ বলে ফেলাতে ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় হাস্য-বিদ্রুপের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকে বিদ্রুপ করে লিখেছেন, ‘Dog and Godi Media not allowed’। এ বছর প্যারিসভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন, রিপোর্টার্স উইদআউট ফ্রন্টিয়ার্স যে প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স প্রকাশ করেছে তাতে মিডিয়ার চাটুকারিতার ফলস্বরূপ ভারতের অবস্থান আট ধাপ নেমে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫০ এ ঠেকেছে। ৬ মে’র সম্পাদকীয়তেই জানিয়েছি যে, একই ইনডেক্সে ভারতের অঘোষিত উপনিবেশ বাংলাদেশের অবস্থান আরো শোচনীয়। আমরা আছি ১৬২তম স্থানে।

বাংলাদেশের দালাল সংবাদমাধ্যম কেবল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পদলেহনের মধ্যে তাদের গোলামী সীমিত রাখে নাই। এরা একই সাথে ভারতীয় আধিপত্যবাদের দালালিও করে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ভারতের পদতলে এমনভাবে বিসর্জন দেয়া হয়েছে যে, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর শেষ করে তার দেশে ফিরে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নাকি ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।চালনা বন্দর অনেক আগেই দেয়া হয়েছিল, এবার চট্টগ্রামও দেয়া হলো। এই সব বন্দর বাংলাদেশের সম্পদ, কোন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে তিনি চাইলেই যাকে ইচ্ছা দিয়ে দিতে পারেন। অথচ বাংলাদেশের কোন মিডিয়ায় এ নিয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয় নাই। অনেক পাঠকের হয়ত স্মরণে আসতে পারে যে, ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভারতপন্হী সব মিডিয়াতে সেই ২০০০ সাল থেকেই ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। সেই সময় ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং সমজাতিয় পত্রপত্রিকায় প্রচার করা হতো যে, ট্রানজিট দিলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় হবে এবং তা দিয়েই বাংলাদেশ নাকি সিঙ্গাপুরের মত সম্পদশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আজ এক দশক হয়ে গেল ভারতকে ট্রানজিটের নামে করিডোর দেয়া হয়েছে। অথচ, সেই সব পত্রিকা এখন আর জনগণকে জানায় না যে ট্রানজিট খাতে প্রতি বছর বাংলাদেশের কয় ডলার আয় হচ্ছে। শেখ হাসিনা গত তেরো বছরে দিল্লির প্রত্যক্ষ মদদে ক্ষমতা ধরে রাখার বিনিময়ে বাংলাদেশের জমি, পানি, বন্দরসহ সকল সম্পদ ভারতের মালিকানায় দিয়ে দিয়েছেন। তিনি সদম্ভে বলেও থাকেন যে, তার আমলে যা দেয়া হয়েছে তা ভারত কোন দিন ভুলতে পারবে না। তেল, গ্যাস, বন্দর রক্ষা কমিটি নামে ভারতেরই আর এক দালাল মুখোশধারী গোষ্ঠী বিএনপি সরকারের আমলে বিদেশের ইন্ধনে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য জন্ম নিয়েছিল। ভারত আজ পুরো বাংলাদেশ গিলে খেলেও সেই গোষ্ঠীর টিকি আর দেখা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের মিডিয়ায় ভারতীয় অনুপ্রবেশের ধারা স্বাধীনতার পর থেকেই অব্যাহতভাবে চলছে। ভারত গত অর্ধ শতকে বাংলাদেশের সিংহভাগ মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে সমর্থ হয়েছে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ সম্পাদক, মিডিয়ামালিক এবং সাংবাদিক প্রকাশ্যেই ইসলামবিদ্বেষী। জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামপন্থী মিডিয়া একে একে বন্ধ করে দিয়ে ভারত এবং হিন্দু সংস্কৃতির পক্ষে একতরফা প্রচারণার সুযোগ সৃষ্টি করে জনগণের মগজ ধোলাই করার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। ইসলামের বিরুদ্ধে এবং বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের নামে হিন্দু সংস্কৃতির পক্ষে অব্যাহত প্রচারের বিরোধিতা করার মত আর কোন মিডিয়ার অস্তিত্ব বাংলাদেশে রাখা হয় নাই। ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর যে নির্মম, অমানবিক নির্যাতন চলছে সে সম্পর্কেও বাংলাদেশের কোন মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশিত হয় না। কেউ প্রকাশ করতে চাইলে তাকে জেলজুলুমের শিকার হতে হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ পড়ে আজ আর বুঝবার উপায় নাই যে, দেশটির প্রায় নব্বই শতাংশ জনগণ মুসলমান ধর্মাবলম্বী। এই সকল পত্রিকা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মবিশ্বাস এবং নিজস্ব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাঙ্গালী মুসলমানের হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মুছে ফেলে একটি হীনমন্য, পরনির্ভর জাতিতে পরিণত করার অপপ্রয়াস আমাদের রুখতে হবে। দেশের আগামী প্রজন্মকে ভয়ংকর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে হলে এই সকল মিডিয়াকে প্রতিরোধ করা আবশ্যক। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের অনুসারী সকল দালাল মিডিয়াকে না বলার জন্য জনগণের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।

লেখকঃ সম্পাদক, আমার দেশ

2 Comments

  • Anis Chowdhury বলেছেন:

    Today people have a very little choice to speak against the Hyena government. I have high hopes that the situation will change. The most important thing is to make list of the culprits and keep records and evidence in safe place. Without documents, Bangladesh will never be able break the Godi media.

  • আবদুল কাইয়ুম শেখ বলেছেন:

    মিডিয়ার এহেন গোলামিকে ধিক্কার জানাই।

Leave a Reply