সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচন ও মেয়র লুৎফুর রহমান: প্রত্যাশা, দায় ও সতর্কতা

, ,

সিরাজুল ইসলাম শাহীন

বিপুল বিজয়ে বীরের বেশে মেয়র লুৎফুর রহমান ফের সমাসীন হয়েছেন স্বীয় আসনে। তাঁর উপর ধারাবাহিক অন্যায় – অবিচারের যথার্থ জবাব হয়েছে। একই সাথে বারার অধিবাসীদের স্বার্থের প্রতি বিদায়ী কাউন্সিলের চরম নির্লিপ্ততায়  যা ছিল প্রত্যাশিত ও কাঙ্ক্ষিত।  টাওয়ার হ্যামলেটস-এর সচেতন নাগরিক-ভোটারগন এবার সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেননি। এমন কি কোন সুযোগই তারা হাতছাড়া হতে দেননি। মেয়রশীপ রক্ষায় প্রবল প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে রেফারেন্ডামে সফলতা এর বড় প্রমাণ। তবে সকল আকর্ষণের কেন্দ্র তথা নেতৃত্বে কিন্ত লুৎফুর রহমান। তাই প্রত্যাশা অনেক বড় এবং দায়ও ব্যাপক বিস্তৃত। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা অত্যাসন্ন। সঙ্গত কারনেই সতর্কতা আবশ্যক।

জনগণ দিয়েছেন একেবারে উজাড় করে। কাউন্সিলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছে। মেয়র লুৎফুর রহমান জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। জনসাধারণ প্রতিদান দিয়েছেন বুক ভরা আশা নিয়ে। আশাহত যেন না হতে হয়। ভুল করা চলবে না। বড় বিজয়ে মাথা ঘুরে গেলে হবে না। জীবনের বড় সুযোগ মনে করে ঠাণ্ডা মাথায় কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রথমত: অতীতের ভুলগুলো চিহ্নিত করে সতর্ক হতে হবে। কোন ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। প্রথম টার্মের সময় বাংলাদেশের একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ টাউন হলে প্রোগ্রাম করতে গিয়ে বিব্রত হয়েছিলেন। অথচ তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো যেত। কোন ব্যক্তি বিশেষকে বিশেষ সুবিধা দেয়া যাবে না। শতভাগ স্বচ্ছতা থাকলে হীনমন্যতায় ভুগতে হবে না। অতীতের বেনিফিশিয়ারি-অতিস্বার্থপরদের সতর্কদৃষ্টিতে রাখতে হবে।

দ্বিতীয়ত:  বিতর্কিত তথা অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্যদের স্টাফ হিসেবে নেয়া যাবে না। যোগ্যতায়-আস্থায় দরকার মনে হলেও বৃহত্তর স্বার্থে ত্যাগটুকু করতে হবে। আন্তরিক হলে দূর থেকেও সহযোগিতা করা যায়। সম্ভব হলে সম্পূর্ণ ফ্রেশ এক্সপার্ট টিম নেয়া ভাল।

তৃতীয়ত: সকল বিরোধী-প্রতিপক্ষের সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা প্ৰয়োজন। নিজেদের মধ্যেও চলার পথে সৃষ্ট মান অভিমান দূর করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক কথায় নয় আন্তরিক ভাবে ক্ষমা করে দিতে হবে। হেলাল আব্বাস, সিরাজুল হক গংদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে নজির স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। রাবিনা হক, মতিনুজ্জামান গংদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়। মনে রাখতে হবে একতাই বল। কমিউনিটির স্বার্থে নেতৃত্বের কাছে উদারতা কাম্য। একগুঁয়েমি তথা আত্বকেন্দ্রিকতা নয়। রাজনৈতিক হীন সঙ্কীর্ণতার চর্চা এখানে চলতে পারে না।

চতুর্থত: মেইনস্ট্রিম রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করা দরকার। গন কল্যাণের জন্যই রাজনীতি। সুতরাং মেইনস্ট্রিম রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হবার বিকল্প নেই। বিশেষ কারনে লুৎফুর রহমানকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র ধারা তৈরী হয়েছিল। এর ইতি হওয়ার সময় এসেছে। এখানে সমবেত সম্ভাবনাময় প্রতিভাধর মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ এবং অনাগত প্রজন্মের আগামীর কথা ভেবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়া দরকার। প্রথম দুটি ধারায় সম্ভব নাহলে সম্মিলিতভাবে পরবর্তী ধারার কোনটা নিতে হবে। কিন্তু কোন অবস্থাতে মেইনস্ট্রিমের সাথে কমিউনিটির স্থায়ী গ্যাপ হতে দেয়া যাবে না।

পঞ্চমত: সম্ভাব্য প্রতিকূলতা বিবেচনায় রেখে পূর্ব প্রস্তুতি থাকা দরকার। কার্যকরী উদ্যোগ নিয়ে দৃশ্যপটে আসার আগেই সমাধানে সফল হওয়ার চেষ্টা করা দরকার।

মেয়র লুৎফুর রহমান এখন এক মূল্যবান প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সমাজের প্রতীক। যিনি গোটা ইউরোপে অভিবাসীদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। এজন্য তাঁকে দৃষ্টি প্রসারিত করে সামনে দেখতে হবে। চিন্তা-পরামর্শ দিয়ে গাইড করতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহল স্বতঃস্ফূর্ত এগিয়ে  আসতে পারেন। শুভানুধ্যায়ীদের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা আবশ্যক।

আমরা এমন এক ঐতিহাসিক গৌরবময় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী যাদের পূর্বসূরিরা  যেখানেই গিয়েছেন সেখানকার সমাজ আপন করে নিয়েছেন।  মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুলে ফলে সাজিয়ে গড়ে তুলেছেন। এই ইউরোপের আধুনিক সভ্যতার  আতুর ঘরখানা তাঁদের হাতেই তৈরী। বর্তমানেও এ সমাজ এবং মানুষের কল্যাণে নিজেদের মেধা উজাড় করে ভূমিকা রাখতে পারি এ বিশ্বাসটুকু নতুন করে পাশ্চাত্যে তুলে ধরার দায়িত্ব রয়েছে লুৎফুর রহমান, তাঁর টিম এবং সকল নির্বাচিত মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের।

নব নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের অভিনন্দন এবং আন্তরিক শুভ কামনা!

sirajulislamshaheen@yahoo.com

One Comment

Leave a Reply