সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

বাংলাদেশ গত পঞ্চাশ বছরে যেভাবে চলেছে সেভাবে তার পক্ষে আর চলা অসম্ভব!

, ,

সাকিব আলী

গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ কিভাবে চলেছে?

১৯৭২ সালে দেশ স্বাধীন হলো। দেশবাসী শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করলো। তিনি ১৯৭০ সালে নির্বাচিত সংসদকেই ক্ষমতায় রাখলেন এবং এই সংসদকে দিয়েই শাসনতন্ত্র বানানোর কাজ শুরু করালেন। এই সংসদ শাসনতন্ত্র তৈরির জন্য নির্বাচিত না হলেও শুধুমাত্র শেখ মুজিবুর রহমানের আদেশেই তারা একটি বিশাল ক্ষমতা পেলেন; যে ক্ষমতার আনুষ্ঠানিক সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল না।

সে সময় ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের দোর্দণ্ড প্রতাপের সময়। তার দলে আধিপত্য একচ্ছত্র। তিনি যা বলতেন সেটাই ছিলো আদেশ। সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই আওয়ামী লীগ যখন ১৯৭২ সালে ক্ষমতা পেয়ে মুজিবকে মনে রেখে এবং উনার নেতৃত্বে শাসনতন্ত্র রচনা করেছিলেন সেই তন্ত্রে উনাকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেয়া হলো। তিনিই সরকারের নেতৃত্বে থাকবেন, তিনিই নিম্ন আদালতের নেতৃত্বে থাকবেন সরকার প্রধান হিসেবে, তিনিই পছন্দমতো উচ্চ আদালতের বিচারক এবং সাংবিধানিক সকল পদে কে থাকবে তা ঠিক করে দেবেন।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হওয়ার পরে ঐ দেশের সংবিধান বা শাসনতন্ত্র বানাতে সমস্যা হচ্ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে ছিল অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তি আর পূর্ব পাকিস্তানের ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ গণতন্ত্র থাকলে রাজনৈতিক শক্তি থাকে অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর পূর্ব পাকিস্তানের হাতে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে অগ্রসর মানুষরা কখনোই আসল ক্ষমতা দেয় না এবং এখানেও দেয়নি। ঐ দেশটি স্বাধীন হওয়ার সাত বছর পরে নির্বাচন দেয়া হলো। ক্ষমতাসীনরা পুরোপুরি আসন হারালো। গরীব বাঙ্গালীরা ধনী পাঞ্জাবীদের উপর এক দফা নিলো। পশ্চিম পাকিস্তানীরা সুযোগ বুঝে গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাত করলো সামরিক শক্তি দিয়ে। পূর্ব পাকিস্তানের আবুল হোসেন সরকারের পতন হলো সরকার পক্ষীয় সংসদ সদস্যদের দল থেকে লোভ দেখিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে।

এই অভিজ্ঞতার আলোকে শেখ সাহেব বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে একটি ধারা রাখলেন যাতে আইন সভার সদস্যরা দলত্যাগ করলে ক্ষমতা হারাবেন। ফলে আইন সভার সদস্যরা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা হারালেন। তারা জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল ভূমিকা রাখার শক্তি হারিয়ে দলনেতার পূর্ণ অনুগত হলেন। আমরা জানি যে দেশে জনপ্রতিনিধি যতটা জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল ততই সে দেশ উন্নত হয়। কিন্তু আমরা সেই উন্নতি থেকে বঞ্চিত হলাম। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ বাক্য আছে যার মানে করলে দাঁড়ায় যে শিশুকে গোসল করানোর পরে ময়লা পানির সাথে শিশুকে ফেলে দিও না। অর্থাৎ কোন ছোট সমস্যার জন্য পুরো ভালো জিনিসটাকে নষ্ট করা উচিৎ না।

পৃথিবীর অনেক দেশেই আইন সভার সদস্যরা সুযোগ বুঝে লাভের বিনিময়ে দলত্যাগ করে সরকারের পতন ঘটিয়েছেন। আমাদের গত পনের বছরের আদর্শ ভারতেও এ ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। ভারত কিন্তু সদস্যদের অধীন করেনি। এর সঠিক সমাধান হচ্ছে ঐ দুর্নীতি যারা করেছেন তাদের বিচারের আওতায় আনা যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ অন্যায় করতে সাহস না পায়। কিন্তু তা না করে আইন সভার সদস্যদের স্বাধীনতাই কেড়ে নেওয়া হলো।

ফলে সব ক্ষমতা সরকার প্রধানের হাতে দেয়া হলো। তিনি আইনের উপরে উঠে গেলেন। তার কথাই আইন। তিনি যা করতে চাইবেন তা আইন সভায় তার অধীন সংখ্যাগরিষ্ঠের দিয়ে করাতে পারবেন। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে ধনী/গরীব, মুক্ত/বন্দী করতে পারেন। এই সর্বগ্রাসী ক্ষমতা একজনের কাছে গেলে শুধু তার সমর্থকেরাই ধন সম্পদের মালিক হন না; একচেটিয়া কারবারি তারাই করতে পারেন। এর ফলে সত্যিকারের দক্ষ ব্যবসায়ীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন এবং ক্ষমতাসীন অনুগত গোষ্ঠীর অধীনে অর্থনীতি খুব একটা কার্যকর হতে পারে না। এ অবস্থা রাজতন্ত্রের অর্থনীতির সাথে তুলনীয়।

কিন্তু আমাদের অবস্থা আর একটু বেশী খারাপ। আমাদের দেশে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর পক্ষে আইন মেনে রাতারাতি ধনী হওয়া সম্ভব না বলে তারা আইন ভেঙে রাতারাতি ধনী হন। আইনের চোখে অপরাধী হয়ে যান। তখন ক্ষমতাসীনতাই তাদের রক্ষাকবচ হয়ে যায়। নতুবা বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।

তাই একবার যিনি ক্ষমতা পেয়েছেন তিনি আর ছাড়তে চাননি। বাংলাদেশে কখনো দলীয় সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। বারবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আর সামরিক হস্তক্ষেপ করতে করতে সরকার পরিবর্তন হয়। এ দেশের যারা শাসন করেন তারা ভীষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন; দুর্নীতি করে বিদেশে অভয়বাস গড়ে তোলেন যাতে সরকার পড়ে যাওয়ার সময় পালাতে পারেন। এ ব্যবস্থা যতদিন থাকবে ততদিন দেশের স্থায়ী উন্নয়নের জন্য দেশ পরিচালকরা কাজ করতে পারবেন না। আর যতদিন স্থায়ী উন্নয়ন নীতি করা না হয় ততদিন এই দেশে যথেষ্ট বিনিয়োগ হবে না, কর্মসংস্থান হবে না।

বাংলাদেশের প্রধান মুক্তি হবে শুধুমাত্র বিচার বিভাগ, আইন সভা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। সরকারি কর্মচারীদেরও কাজ করতে বিধিবদ্ধ স্বাধীনতা দিতে হবে। এর ফলে সরকার প্রধান দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ক্ষমতা হারালেও যে সিদ্ধান্ত শেষমেশ নিতে পারবেন তার জন্য হঠকারিতার অভিযোগ উঠবে না।

এ ধরনের সচেতনভাবে ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর সাথে আলোচনা এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেগুলোই সবচেয়ে ভালো এবং শক্তিশালী হয়। কারণ ঐসব সিদ্ধান্তে সবার সায় থাকে। শেখ হাসিনা একা সিদ্ধান্ত নিলেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর রাখবেন না। এ সিদ্ধান্ত এজন্য টিকবে না। পুতিন একা সিদ্ধান্ত নিলেন ইউক্রেন দখল করবেন। যদি ঠিক মতো যুদ্ধ রাশিয়া জেতে তাহলে তিনি বীর হবেন। কিন্তু হারলে সব দোষ উনার হবে। কিন্তু গণতান্ত্রিক ইউক্রেন যুদ্ধ খারাপ করলেও রাষ্ট্র প্রধানের কোন চরম অপরাধ হবে না।

সুতরাং বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা যাতে ঝুঁকি মুক্ত হয় সে জন্য ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেয়ার ব্যবস্থা করে নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা আমাদের প্রধান কাজ হওয়া উচিৎ। এ কাজ ছাড়া আমাদের মুক্তি অসম্ভব।

লেখক, সাবেক কূটনীতিক ও প্রধান সমন্বয়ক, পিপলস একটিভিস্ট কোয়ালিশন- প্যাক

One Comment

  • Kaisar Khan বলেছেন:

    Thank you Mr. Ali for for your open standing for the democracy. You are not like many of us who pretend to be neutral by not protesting the injustice. We will be held accountable at the day of judgement. To my understanding intellectual corruption is the worst form of corruption. It has way more evil power than other forms of corruption. May Allah protect us from that.

Leave a Reply