সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

ভেজাল নাস্তিকদের নির্ভেজাল বিজ্ঞানচর্চা

, ,

মিনার রশিদ

ভেজালের এই জমানায় নির্ভেজাল নাস্তিক খুঁজে পাওয়া দায়! নদী পারাপারের সময় নৌকা ডুবি শুরু হলে বা এরকম কোনো বিপদ উপস্থিত হলে অনেক নাস্তিক নাকি আল্লাহ-খোদা বা ভগবানের নাম জপা শুরু করে।

একজন খাঁটি নাস্তিকের কাছে সকল ধর্মই একইরূপ গোস্বা উৎপাদন করার কথা! কিন্তু আমাদের দেশের এই ভেজাল নাস্তিকরা একটি ধর্মের উপরই খড়গহস্ত হয়ে পড়েন! কাজেই এদেরকে নাস্তিক বললে খাঁটি নাস্তিকদের অপমান করা হবে। এরা নাস্তিক না- এক কথায় এরা মুসলিম নামধারী ইসলামোফোবিক!

এখানে আরেকটি মজার বিষয় হলো, আপনি যদি এদেশের ১০০ জন টপ নাস্তিকের (আদতে ইসলামোফোবিক) তালিকা তৈরি করেন তবে দেখবেন এদের শতকরা ৯৮জন বিজ্ঞান নয়- সাহিত্য, ইতিহাস, নাট্যকলা এই ধরণের বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। এরা সবাই নাকি আবার বিজ্ঞানের কারণেই নাস্তিক হয়েছেন! ইনারা নিজেদের দাবি করেন বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ হিসাবে ।অর্থাৎ আমাদের মুনতাসির মামুন বা শাহরিয়ার কবির ইনারা হলেন বিজ্ঞান মনস্ক এবং ডা: জাকির নায়েক হলেন একজন অ-বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ!

ডারউইনের থিওরি বা বিবর্তনবাদ এদের খুব ফেভারিট বিজ্ঞান। যদিও এটি বিজ্ঞানের থিওরি পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে নাই, একটা হাইপোথিসিস মাত্র। এই হাইপোথিসিসে অনেক গোঁজামিল রয়েছে! আধুনিক ভ্রূণ- বিজ্ঞান বা জীববিজ্ঞানের অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে পারে নাই। এই মতবাদ নিয়ে স্বয়ং বিজ্ঞানীদের মাঝেই অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এটাকে বিজ্ঞানের নামে একটা ধাপ্পাবাজি হিসাবে গণ্য করেন!

বিবর্তনবাদে আমাদের দেশের কথিত বিজ্ঞানমনস্কদের ঈমান এতই শক্ত যে মনে হবে নিজের চোখে বানর থেকে মানুষ হওয়া ইনারা দেখে এসেছেন! পৃথিবীর অনেক দেশের স্কুলের সিলেবাস থেকে এই বিবর্তনবাদ উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের কথিত এই বিজ্ঞানের সেবকরা বিবর্তনবাদকেই সকল বিজ্ঞানের উৎসরূপে তুলে ধরেন। আর এই কাজটি ইনারা করেন এক ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সাংস্কৃতিক গোঁয়ার্তুমির মাধ্যমে। এদের সকলের রাজনৈতিক শক্তির মূলে রয়েছেন একজন ‘কওমি জননী’ বা ‘তাহাজ্জুদওয়ালী’!

নাস্তিকদের নিয়ে বড় সমস্যা হলো- এরা মানুষের মন থেকে পরকালীন জবাবদিহিতার বোধটি তুলে দেয়। এর ফলে এই দুনিয়ার বুকে একজন মানুষ চরম বেপরোয়া হয়ে পড়ে। কোনোরূপ জবাবদিহিতার অনুভূতি না থাকায় দুনিয়ার বুকে যে কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে। নাস্তিকদের নিয়ে ভয়টি মূলত এখানেই। এদের মন ভর্তি থাকে ঘৃণা। ঘৃণার চোটে এরা প্রতিপক্ষের শরীরে গড় গড় করে বমি করে দিতে চায়।

সকল যুগের নাস্তিক বা খোদাদ্রোহীদের মধ্যে একটা অদ্ভুত মিল রয়েছে! ফেরাউন আট দশ তলা উঁচু বিল্ডিং বানিয়ে গর্ব ভরে ঘোষণা করেছিলেন, আমি এত উপরে উঠলাম, কই আমি তো আল্লাহকে দেখতে পেলাম না? একই ভাবে প্রথম মহাশূন্যে পা রাখা ইউরি গ্যাগারিন মাটিতে এসে জানালেন, মহাকাশে আমি তন্ন তন্ন করে গডকে খুঁজলাম, কিন্তু গডের দেখা পেলাম না! মজার ব্যাপার হলো, গ্যাগারিন মাটি থেকে মাত্র কয়েকশ কিলোমিটার উঁচুতে উঠেছিলেন। বর্তমান ক্লাস থ্রির এক বাচ্চাও বলবে- এই গ্যাগারিন ব্যাটা এক্ষেত্রে কত বড় একজন বেআক্কেল ছিলেন!

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, সবচেয়ে দূরের যে নক্ষত্রটি থেকে আলো বিজ্ঞানীরা ধরতে পেরেছেন তা ১২০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে! কয়েক মিনিট ভাবুন এই দূরত্বটুকু আসলে কত হবে ? আলোর গতি সেকেন্ডে ১,৮৬,০০০ মাইল হিসাবে মিনিটে হবে ১,১১, ১৬,৩০০ মাইল। আমরা যদি ঘন্টায় ৫০০ মাইল বেগের একটি বিমানে চড়ে রওনা দেই তবে এক মিনিটে আলো যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করে সেটুকু দূরত্ব পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৭৭ বছর! এক ঘন্টায় আলো যাবে ৬৬৬,৯৮১,৬০০ মাইল। এর পরে একদিনে আলোর গতি বের করতে ক্যালকুলেটরের মাথা খারাপ হয়ে পড়ে। চেষ্টা করে দেখুন। একটু পানি খেয়ে পরে ভিজুয়েলাইজ করতে চেষ্টা করুন এক মাসে এই আলো কত দূরত্ব অতিক্রম করবে? এক বছরে এই দূরত্ব কত হবে?

এক শ বছরে কত হবে? এক হাজার বছরে কত হবে? এক লাখ বছরে কত হবে? এক কোটি বছরে কত হবে? বারো শ কোটি বছরে কত হবে? কলা বিজ্ঞানী ফেরাউন এবং প্রথম মহাকাশচারী গ্যাগারিন তাহলে আল্লাহর এই সৃষ্টির কতটুকু পাড়ি দিয়েছিলেন তা সহজেই অনুমেয়! ঔদ্ধত্য মানব সন্তান আসলেই চরম বোকা হয়ে পড়ে!

এখন পৃথিবীর সকল মানুষ চাঁদা তুলে যদি আমাদের জাফর ইকবাল এবং বহুল আলোচিত বিজ্ঞানের শিক্ষক হৃদয়মন্ডলকে একটি সুপারসনিক বিমানে (এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় উনিশ হাজার মাইল বা সেকেন্ডে ৫.৩ মাইল) উঠিয়ে স্রষ্টার সৃষ্টির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে (যেটুকুর খোঁজ বা হদিস মানবজাতি বের করতে পেরেছে) স্রষ্টাকে খুঁজতে পাঠিয়ে দেয় তবে তাদের সময় লাগবে মাত্র ৪২০,০০০,০০০, ০০০,০০০ বছর! এরপর আরও ৪২০, ট্রিলিয়ন বছর পর পৃথিবীতে ফিরে এসে জাফর ইকবাল এবং হৃদয় মন্ডল ফেরাউন এবং গ্যাগারিনের মত কনফিডেন্টলি বলতে পারবেন, কই আল্লাহকে তো খুঁজে পেলাম না!

এগুলি নিয়ে ভাবলে সেই স্রষ্টার বিশালত্বের সামনে নিজের মস্তককে ঔদ্ধত্য নহে- আরো নুইয়ে দিবে? মাত্র শত বছরের আয়ু সম্বলিত একজন মানুষকে যেহেতু সৃষ্টির সবকিছু দেখানো সম্ভব না, তাই স্রষ্টা অত্যন্ত দয়াপরবশ হয়ে সৃষ্টির পেছনের এই কাহিনীগুলি জানিয়ে দিয়েছেন।

কাজেই যে বিজ্ঞান তার বিশ্বাসকে পোক্ত এবং শক্ত করছে, সেই বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে একজন বিশ্বাসী কেন দাঁড়াবে? কোরআন বিজ্ঞানের বই না। বিজ্ঞান কোরআন থেকে জন্ম নেয় নাই। আলাদা ঘরে, আলাদাভাবে জন্ম নেয়া এই বিজ্ঞান কোরআনের অনেক আয়াতকে সত্য বলে প্রমাণিত করেছে। যদিও বিশ্বাসীরা এই প্রমাণের জন্যে অপেক্ষা করে নাই! বিজ্ঞান যত সামনে অগ্রসর হচ্ছে , সৃষ্টি রহস্য তত মানুষের কাছে উন্মোচিত হচ্ছে। এতে বিষ্ময়করভাবে কোরআনের অনেক স্টেইটমেন্ট সর্বশেষ বিজ্ঞানের ফাইন্ডিংসের সাথে মিলে যাচ্ছে। এতে বিশ্বাসীমন একটু পুলকিত হলেও আমাদের এই বিশেষ কলাবিজ্ঞানী ভাইয়েরা যারপরনাই নাখোশ বা বিরক্ত হন। এর কারণটিও বোধগম্য হয় না। ইনারাই হৃদয় মন্ডলের এক অর্বাচীন ছাত্রের মুখ দিয়ে ইসলাম ও বিজ্ঞানবিষয়ক প্রশ্ন করিয়ে এবং তা প্রচার করে ইসলামকে বিজ্ঞানের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে মহা হৈ চৈ বাঁধিয়ে ফেলেন! এই হাওয়াতে কাজ না হওয়াতে ডেইলি স্টার আরেক বাতিল মাল তসলিমা নাসরিনকে সামনে আনতে চাচ্ছে!

২০১২ সালে একটি গ্রহাণু রাশিয়ার একটি অঞ্চলে আঘাত করে! তাতে আমেরিকাও ভয় পেয়ে যায়। কংগ্রেসের বিজ্ঞান বিষয়ক কমিটি নাসার প্রধান চার্লস বোল্ডেনকে তলব করে। কারণ এরকম একটি গ্রহাণু যদি নিউইয়র্ক বা ওয়াশিংটন ডিসিতে আঘাত হানে তবে তা পারমাণবিক বোমার চেয়েও অনেকগুণ শক্তিশালী হবে! নাসা জানায়, ২০১২ সালেই এরকম ১৩ হাজার থেকে ২০ হাজার গ্রহাণু আমাদের সোলার সিস্টেমে প্রবেশ করেছে, পৃথিবীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে। তার মধ্যে ১০% এর অস্তিত্ব বা অবস্থান বিজ্ঞানীরা ধরতে পেরেছেন। সূর্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির কারণে বাকিগুলি দেখা যায় নাই। রাশিয়ায় যেটি আঘাত হেনেছিল তার গতিবিধি আঘাত হানার আগে ধরা পড়ে নাই। কংগ্রেসের বিজ্ঞান কমিটি জানতে চায়- এরকম কোনো গ্রহাণু (Asteroid) ছুটে এলে আমাদের কন্টিনজেন্সি প্ল্যানটি কী হবে? চার্লস বোল্ডেন তখন জবাব দেয়, জাস্ট প্রে! সোজা কথায়, সেজদায় লুটিয়ে পড়!
এখন প্রশ্ন হলো, নাসা প্রধান বিজ্ঞান ছেড়ে কেন এই ধর্ম বা কুসংস্কারের হাতে আত্মসমর্পণ করলেন?
জানি না, আমাদের মুনতাসির মামুন এবং শাহরিয়ার কবিরদের মত কলাবিজ্ঞানী এবং জাফর ইকবালদের মত ড্রোন বিজ্ঞানী এর জবাবে কী বলবেন?

লেখকঃ বিশিষ্ট কলামিস্ট

4 Comments

Leave a Reply