সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

রমজান হোক গিবত (পরনিন্দা) মুক্ত

, ,

মুহাম্মাদ কামরুল হাছান (ফরিদ)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলিম উম্মার পাপ মোচন ও তার প্রিয় বান্দা করে নেয়ার সুজোগ হিসাবে পবিত্র রমজান মাস পাঠিয়েছেন। রমজানের পরিপূর্ণ সাওয়াব লাভ করতে হলে আমাদেরকে গিবতমুক্ত (পরনিন্দামুক্ত) সাওম (রোজা) পালন করতে হবে।

বর্তমানে দেখা যায়, আমারা কষ্ট করে দিনভর না খেয়ে সাওম পালন করি আবার গিবতও করি। এতে আমাদের সাওম পরিপূর্ন আদায় হয় না। আমাদের সারাদিনের না খেয়ে থাকার কষ্ট, সাহরি, ইফতার, কিয়ামুল লাইল সবই বৃথা পরিগনিত হয়। তাই, আমাদের রামাদানকে গিবতমুক্ত করতে হলে গিবত সম্পর্কে জেনে তা থেকে বেচে থাকা জরুরী।

গিবতের (পরনিন্দা) সংজ্ঞাঃ
গিবত আরবি শব্দ। এর অর্থ-পরনিন্দা, পরচর্চা, অসাক্ষাতে দুর্নাম করা, সমালোচনা করা, অপরের দোষ প্রকাশ করা, কুৎসা রটনা করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়- কারও অনুপস্থিতিতে অন্যের নিকট এমন কোনো কথা বলা, যা শুনলে সে মনে কষ্ট পায় তাকে গিবত বলে। প্রচলিত অর্থে- অসাক্ষাতে কারও দোষ বলাকে গিবত বলা হয়।

গিবতের স্বরূপঃ
আমরা অনেক সময় অলস বসে থাকি। হাতে কোনো কাজ থাকে না। সহপাঠীদের সাথে আড্ডা দেই। এসময় কথায় কথায় অন্যের সমালোচনা করি। সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের দোষ খুঁজে বেড়াই। তাদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করি। বস্তুত এসবই গিবত। ঠাট্টাচ্ছলে গল্প করার সময় এসব কথার দ্বারা অনেক বড় গুনাহ হয়। তবে শুধু কথার মাধ্যমেই নয় বরং আরও নানা ভাবে গিবত হতে পারে। যেমন-লেখনীর মাধ্যমে, ইশারা-ইঙ্গিতে বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কারও সমালোচনা করা। কারও কোনো দোষ আলোচনা করা গিবতের সবচেয়ে পরিচিত রূপ। এছাড়াও শারীরিক দোষ-ত্রুটি, পোশাক-পরিচ্ছদের সমালোচনা, জাত-বংশ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা, কারও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও অভ্যাস নিয়ে সমালোচনা করাও গিবতের অন্তর্ভূক্ত।

গিবতের ভয়াভয়তা:
গিবত একটি জঘন্যতম অপরাধ। এর ভয়াভয়তা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন :
“ধ্বংস নিশ্চিত এমন ব্যক্তির জন্য যে সামনা – সামনি মানুষকে গালাগাল দেয় এবং পিছনে নিন্দা রটাতে অভ্যস্ত” (হুমাযাহ- ১)।

আল্লাহ তা’য়ালা অন্যত্র বলেনঃ
“আর তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করতে ভালবাসবে? বস্তুতঃ তোমরা নিজেরাই তা অপছন্দ করে থাকো” (সূরা আল হুজরাত, আয়াত-১২)।

রাসুল (সঃ) গিবতকে সবসময় অপছন্দ করতেন। তিনি আমাদেরকে গিবত থেকে বেচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি গিবতের ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেনঃ
“তোমরা মুসলমানদেরকে কষ্ট দিয়ো না, তাদেরকে ভর্ৎসনা করো না এবং তাদের দোষ ত্রুটি অনুসন্ধান করো না। কেননা যে তার মুসলিম ভাইয়ের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করে বেড়ায়, আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করবেন। আর আল্লাহ যার দোষ ত্রুটি অনুসন্ধান করবেন, তাকে অপদস্থ করবেন, সে তার বাহনের পেটের মধ্যে অবস্থান করলেও” ( তিরমিযী হা/২০৩২ , হাদীছ হাসান)।

রাসুল (সঃ) আরো বলেনঃ
“আমার পরওয়ারদেগার যখন আমাকে মি’রাজে নিয়ে গেলেন, তখন আমি কতিপয় লোকের নিকট দিয়ে গমন করলাম, যাদের নখ ছিল তামার। তা দ্বারা তারা নিজেদের মুখমণ্ডল ও বক্ষ আঁচড়াতে ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন, এরা ঐ সকল লোক যারা মানুষের গোশত খেত এবং তাদের ইজ্জত নষ্ট করত”(আবুদাউদ, বাংলা মিশকাত হা/৪৮২৫)।

গিবতের মাত্রা/পরিমানঃ
কী ধরনের কথা গিবতের পর্যায়ে পড়ে এটা আমরা অনেকেই জানি না। এ জন্য আমরা অন্যের পিছনে অনেক কথা বলেও এটাকে গীবতের মত জঘন্য অপরাধ মনে করি না। অথচ, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি নবী করীম (সঃ) -কে বললাম, ছাফিয়্যা সম্পর্কে আপনাকে এইটুকু বলাই যথেষ্ট যে, সে এইরূপ এইরূপ। তিনি এটা দ্বারা বুঝাতে চাইলেন যে, তিনি বেঁটে। রাসূলুল্লাহ ( ছাঃ ) বললেন, ‘যদি তোমার এ কথাকে সমুদ্রের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা সমুদ্রের রং পরিবর্তন করে দেবে’ (তিরমিযী , আবুদাউদ, মিশকাত হা/৪৮৫৩)।

তাই বলা যায়, সামান্য কারো শরীরের ঘটন নিয়ে কথা বলাটাও গিবতের অন্তর্ভুক্ত।

গিবত থেকে বাচার উপায়ঃ
আজ আমরা খাওয়ার টেবিল, চায়ের দোকান, অফিস-আদালত সর্বত্রই গিবতের মত জঘন্যতম কাজে ব্যস্ত। এ থেকে সাধারণ মানুষ, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, আলেম সমাজ কেউই মুক্ত নয়। আমাদের উচিত যে কোন মূল্যে গিবত থেকে বেচে থাকা।

গিবত থেকে বাচার কিছু উপায় উল্লেখ করছি।
গিবত, পরনিন্দা, কুটনামি, মিথ্যা-অশ্লীল কথা, গালমন্দ করা ইত্যাদি জিহবার কাজ। সুতরাং এগুলো থেকে বাঁচতে হলে প্রথমে জিহবা সংযত রাখতে হবে। জিহবা সংযত রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার কাছে এই অঙ্গীকার করবে যে, সে তার দুই চোয়ালের মধ্যস্থিত বস্তুর এবং তার দু’পায়ের মধ্যস্থিত বস্তুর যিম্মাদার হবে তবে আমি তার জন্য জান্নাতের যিম্মাদার হবো” (বুখারি)।

বিনা প্রয়োজনে মানুষের সাথে আড্ডা না দেয়া; যারা মানুষের বদনাম করে বেড়ায় যথাসম্ভব তাদের সঙ্গ পরিহার করা; কেউ কারো ব্যাপারে বলা শুরু করলে সাথে সাথে তাকে থামিয়ে দেয়ার সাহস ও মানসিকতা অর্জন করা; সর্বপরি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাহায্য চাওয়া।

উকবা ইবনু আমির ( রাঃ ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, নাজাতের উপায় কি? তিনি বললেন, ‘নিজের জিহবা আয়ত্তে রাখ, নিজের ঘরে পড়ে থাক এবং নিজের পাপের জন্য রোদন করো’ (আহমাদ , তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৮৩৭)।

তাই আমরা যদি রমজান মাসকে ট্রেনিং এর মাস হিসাবে কাজে লাগিয়ে গিবতের মত ভয়াভয় পাপ কাজ থেকে বেচে থাকতে পারি তা হলেই আমাদের রমজানের সিয়াম পালনসহ যাবতীয় কষ্ট সার্থক হবে এবং আমরা দিন দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রিয় বান্দা হিসাবে গড়ে উঠতে পারবো। রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে গিবতমুক্ত (পরনিন্দা) সাওম পালন করে তার প্রিয় বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন!

Leave a Reply