সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিধবা নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

, ,
নিজস্ব প্রতিনিধি
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে। প্রায়ই ক্যাম্পের ভেতরে রাতের অন্ধকারে অভিযানে চালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া হতভাগ্য রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ  রয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
সন্ত্রাসী, ইয়াবা পাচার চক্র ও খুচরা ইয়াবা কারবারিদের গ্রেপ্তারের নামে শরণার্থী শিবিরে প্রায়ই মধ্যরাতে অভিযান চালায় আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়ানের সদস্যরা। এসব অভিযান নিরীহ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জমানো টাকা-পয়সা নিয়ে যাবার অভিযোগও রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
গত ৬ মে কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের বি ব্লকের ৩১ নম্বর শেডের ৬ নম্বর রুমে রাত ১১টায় অভিযানের সময় এক নারীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।  এতে দেখা যায়, এসআই খুরশেদের নেতৃত্বে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ওই নারীকে নির্যাতন করছেন।
ওই বাসায় শরণার্থী নারী সমসিদা বেগম (৪১) এবং তার দুই ১২ ও ৭ বছরের মেয়ে থাকেন।
তার কক্ষে ঢুকেই এসআই খুরশেদ ও অন্য পুলিশ সদস্যরা বলেন, সমসিদা বেগমের বাসার ছাদে ডিশ লাইন রয়েছে।  সেটা তখনই নামিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেন তারা। এক পর্যায়ে ঘুষও দাবি করেন। ঘুষ দিতে রাজি না হলে এসআই খুরশেদ এক পর্যায়ে বিধবা ওই নারীকে মারধর করেন। তার লজ্জাস্থানেও আঘাত করেন।
পুলিশের নির্যাতনে জ্ঞান হারাবোর পর বর্তমানে তাকে কক্সবাজার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে কিছুটা সুস্থ হবার পর ভুক্তভোগী এই নারী কাঁদতে কাঁদতে সেই দিনের পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কেঁদে কেঁদে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন এবং দোষী পুলিশ সদস্যের বিচার চাচ্ছেন।
তিনি বলছেন, ১৪ আর্মড পুলিশ এসআই খুরশিদের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক গত ৬ই মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আমার বাসায় গিয়ে ডিশের লাইন খুলতে বলেন। তখন আমি তাদেরকে বলি যে আমি মহিলা মানুষ এত রাতে উপরে উঠে কীভাবে এটা খুলব। আগামীকাল খুলে দেব। তখন তারা আমাকে বলেন যে, ৫ হাজার টাকা দে।
আমি তাদেরকে বলি ৫ হাজার টাকা এখন কোথায় পাব? আমি একজন বিধবা অসহায় মহিলা। কষ্ট করে খাই।
এটা বলার সাথে সাথে এসআই খুরশিদ আমার বুকে ঘুষি, গালে চড় ও  লাথি মারেন। লাথি মারার পর বন্দুক দিয়ে আমার লজ্জাস্থানে কয়েকবার আঘাত করে দরজা ভেঙ্গে আমার মোবাইল নিয়ে যান।
আমি এসআই খুরশিদের পা ধরলে আমাকে গলা চিপে আবার আমার লজ্জাস্থানে লাথি মারলে আমি বেহুঁশ হয়ে পড়ে যাই। পরে স্থানীয় কয়েকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বেহুঁশ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে আমাকে কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠানোর ১ ঘণ্টা পর আমার হুঁশ ফিরে।
আমি ১৪ এপিবিএন এর পুলিশের অন্যায় নির্যাতনের বিচার চাই।
স্থানীয় একটি এনজিওর সঙ্গে কাজ করা ক্যাম্পের একজন রোহিঙ্গা তরুণ জানান, ১৪ আর্মড পুলিশের সদস্যরা হরহামেশাই অভিযানের নামে শরণার্থী নারীদের গায়ে হাত তোলে। লাঠিচার্জও করে। এটা খুবই দুঃখজনক।
তিনি বলেন, এমনকি মধ্যরাতেও তারা শরণার্থীদের বাসায় ঢুকে তল্লাশির নামে হয়রানি করেন।  কিন্তু,  তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

Leave a Reply