সংবাদ শিরোনামগুলো
>>ডাকাত বা লুটেরারা বদমাইশ কিন্তু তাদের সর্দারনী নিষ্পাপ!>>শেখ হাসিনাও সৌজন্য শেখাচ্ছেন!>>শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে বললেন মির্জা ফখরুল>>৪ মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ বিবৃতি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন>>বিতর্কিত গণকমিশন ও ঘাদানিকের সাথে জড়িতদের আয়ের উৎস খুঁজতে দুদকে স্মারকলিপি>>লুটেরাদের ডলার লুটে টাকার মান কমল আরেক দফা>>আলেমদের বিরুদ্ধে তথাকথিত কমিশনের শ্বেতপত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা- সর্বদলীয় ওলামা ইউকে>>আওয়ামী লুটেরাদের ডলার লুট>>শেখ হাসিনার অধিনে কেউ ভোটে যাওয়ার চিন্তা করলে ভুল করবে-শামসুজ্জামান দুদু>>অবশেষে গডফাদার খ্যাত হাজী সেলিম কারাগারে: কতটা দ্রুততায় জামিন মঞ্জুর হয় সেটাই দেখার বিষয়

হুমকির মুখে বাংলাদেশ নামক জাতিরাষ্ট্র

, ,

মাহমুদুর রহমান

গত শতাব্দিতে বাংলার পূর্বাংশ দুই বার স্বাধীন হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে পূর্ব বংগের অবহেলিত মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ প্রবল উৎসাহের সাথে স্বেচ্ছায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উপমহাদেশ বিভক্ত করে সৃষ্ট, ভারতীয় মুসলমানদের স্বাধীন আবাসভূমি, পাকিস্তানের অংশ হতে সম্মতি জানিয়েছিলেন। আজকে যে ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা ভারতের সহায়তায় দখল করে আছে তারা ইতিহাসের এই অংশটি মুছে দিতে বদ্ধপরিকর হলেও প্রথম স্বাধীনতার স্মৃতি এতই তাজা যে, ওটা চাইলেও মোছা সম্ভব হচ্ছে না। মাত্র পঁচাত্তর বছর আগের ইতিহাস এত তাড়াতাড়ি একেবারে উল্টে দেওয়া কঠিন। তাছাড়া, স্বয়ং শেখ হাসিনার জন্মও হয়েছিল পাকিস্তান সৃষ্টির বছরেই সেপ্টেম্বর মাসে। তার পিতা শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম নেতা হোসেন শহীদ সু্হরাওয়ার্দির একজন বিশ্বস্ত কর্মী ছিলেন। তিনি সেই আন্দোলনে বিরুদ্ধ পক্ষ হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে মারামারিও করেছেন। শেখ মুজিবকে রাতারাতি লেখক বানিয়ে যে বইটি {অসমাপ্ত আত্মজীবনী} ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে হাসিনা সারা বিশ্বে প্রচার করছেন সেই বইতেই এই সব তথ্য রয়েছে। পূর্ব বংগকে পাকিস্তানভূক্ত করতে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ যে খুব উৎসাহী ছিলেন এমন তথ্যই বরং ইতিহাসে মেলে না। ব্রিটিশ ভারতের যে কয়েকটি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশের নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে কেম্ব্রিজের ছাত্র চৌধুরী রহমত আলী ১৯৩৩ সালে ‘পাকিস্তান’ নামের জন্ম দিয়েছিলেন সেখানেও ’ব’ অর্থাৎ বাংলাদেশ নাই। এমনকি উপমহাদেশ বিভক্তির একেবারে পূর্ব মুহুর্তে সুহরাওয়ার্দি গুটিকয় হিন্দু-মুসলমান বাংগালী নেতার সাথে মিলে স্বাধীন অবিভক্ত বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে জিন্নাহ সেই উদ্যোগেও সমর্থন জানিয়েছিলেন। উপমহাদেশে আরো একটি মুসলমানপ্রধান স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে বুদ্ধিমান জিন্নাহ আপত্তির কিছু দেখেন নাই। বরং বাংগালী হিন্দু জনগোষ্ঠীর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এবং গান্ধী-নেহরু-প্যাটেলের বিরোধিতার ফলেই সুহরাওয়ার্দির সেদিনের উদ্যোগ সফল হয় নাই। বাংগালী হিন্দুরা কিছুতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের শাসন মেনে নিতে সম্মত হয় নাই।

১৯৭১ সালে উপমহাদেশের একই পূর্ব অঞ্চল ভারতসমর্থিত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ নাম পরিগ্রহণ করে। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, পাকিস্তানকে যেমন জাতিরাষ্ট্র নামে সংজ্ঞায়িত করা হয়, একইভাবে বাংলাদেশকেও জাতিরাষ্ট্র বলা হয়ে থাকে। কিন্তু উভয় জাতিরাষ্ট্রের মধ্যে চরিত্রগত পার্থক্য রয়েছে। কোন কোন পাঠকের কাছে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর ঠেকতে পারে। পার্থক্যটা হলো, পাকিস্তান একটি ধর্মভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র, অপরদিকে বাংলাদেশ ভাষাভিত্তিক ও জাতিতত্বমূলক জাতিরাষ্ট্র। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বাংলায় প্রায় দশ কোটি বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা ভারতের নাগরিক এবং অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অর্থাৎ শতকরা হিসেবে বাংলাদেশ মাত্র ষাট ভাগ বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতিরাষ্ট্র। একই ভাষা ও জাতিতত্বের বাকি প্রায় চল্লিশ ভাগ মানুষ এমন এক প্রবল আধিপত্যমূলক ও ক্ষমতাধর প্রতিবেশি রাষ্ট্রের নাগরিক যে দেশটি নাকি বাংলাদেশের উপর সেই ১৯৭১ সাল থেকেই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ফলে এই ক্ষুদ্র জাতিরাষ্ট্রের স্বাধীনতা রক্ষা করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তানকে দ্বিখন্ডিত করে দ্বিতীয় স্বাধীনতা প্রাপ্তির অর্ধ শতাব্দি পরে এসে দেখা যাচ্ছে যে, একটি লাল-সবুজ পতাকা এবং জাতীয় সংগীত থাকলেও বাংলাদেশকে আর প্রকৃত স্বাধীন দেশ বলা যাচ্ছে না।

গত সপ্তাহে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রি জয়শংকর একদিনের সফরে বাংলাদেশ ঘুরে যাওয়ার পর ভারতের পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সর্ববৃহৎ সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রাম আধিপত্যবাদি প্রতিবেশি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনে দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেই সব সংবাদের কোন প্রতিবাদ জানানো হয় নাই। একটি দেশের সমুদ্রবন্দর কোন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না যে তিনি চাইলেই সেই সম্পত্তি অপর কোন দেশকে দিয়ে দিতে পারেন। একটি সার্বভৌম দেশের কোন সম্পদ অন্য কোন দেশ কোন চুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করতে চাইলেও সে সম্পর্কে সংসদ এবং মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেওয়া নিয়ে এই প্রকার কোন আলোচনার কথা অদ্যাবধি শোনা যায় নাই। এমনকি, এই জাতীয় প্রস্তাব যে দেওয়া হয়েছে সেটা পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত বলা হয় নাই। আরো আশ্চর্য্যের বিষয় হলো দেশের কোন বিরোধী দল, তথাকথিত সুশীল সমাজের কোন প্রতিনিধি কিংবা মিডিয়ার কেউ এ বিষয়ে সরকারকে কোন প্রশ্ন করে নাই। জনগণের পক্ষ থেকেও এই লজ্জাকর নতজানুতার বিরুদ্ধে কোন স্বত:স্ফূর্ত প্রতিবাদ হয় নাই। দেশের সার্বভৌমত্বের রক্ষক এবং ‘দেশপ্রেমিকের’ একমাত্র লাইসেন্সধারী সেনাবাহিনীও নীরব। তারা নিজেদের সুখসমৃদ্ধি বাড়ানোর চিন্তাতেই মশগুল। তার মানে কি এই দাঁড়ায় না যে সারা জাতি স্বেচ্ছায় ভারতের অধীনতা মেনে নিয়েছে?

প্রসংগক্রমে পুরনো বিষয়ের অবতারণা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের সকল অবকাঠামো ভারতকে দিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত বহু বছর ধরেই চলছে। আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে যখন বিএনপি ক্ষমতাসীন ছিল তখন থেকেই বাংলাদেশকে ভারতের নিয়ন্ত্রনাধীনে একটি ‘ট্রানজিট রাষ্ট্রে’ পরিণত করার দেশি এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছিল। সদ্য পরলোকগত হাসিনার দীর্ঘ দিনের অর্থমন্ত্রি মুহিত বলেছিলেন, বাংলাদেশের নাকি জন্মই হয়েছে ভারতের ট্রানজিট রাষ্ট্র হওয়ার জন্য। হতেও পারে, এটাই হয়ত আওয়ামী-বাকশালীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল। যাই হোক, সেই সময় ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার পক্ষে ইন্দো-মার্কিন লবির ইঙ্গিতে প্রথম আলো-ডেইলি স্টার গ্রুপ ও রেহমান সোবহান-দেবপ্রিয়দের সিপিডি জোরেশোরে মাঠে নেমেছিল। তারা তারস্বরে প্রচার করছিল, ট্রানজিট দিলেই বাংলাদেশ একেবারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারে ভেসে যাবে। আমি সরকারে খুবই নিম্ন পদে থেকে সাধ্যমত আন্তর্জাতিক এই ষড়যন্ত্র রুখবার চেষ্টা করেছিলাম। তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং অর্থমন্ত্রি সাইফুর রহমান আমাকে সমর্থন করেছিলেন এবং অনেক চাপ স্বত্তেও দেশের স্বার্থ বিকিয়ে ভারতের কাছে সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে সম্মত হন নাই। ভারতপন্থি প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের জনগণ তাদের নিখাঁদ দেশপ্রেমের মূল্য দিতে ব্যর্থ হয়ে আজ দেশের সার্বভৌমত্বের সাথে নিজেদের সকল মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারও হারাতে বাধ্য হয়েছে। আজ বাংলাদেশে আর কেউ প্রশ্ন করবার নেই যে, গত দশ বছরে ট্রানজিটের নামে ভারতকে করিডোর দিয়ে রাষ্ট্র কত ডলার আয় করেছে। গত তেরো বছরে বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে ভারতের অঘোষিত উপনিবেশে পরিণত হয়েছে।

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য সুনির্দিষ্ট ভূখন্ড, স্হায়ী নাগরিক, বৈধ সরকার এবং আইন প্রণয়নকল্পে একটি সার্বভৌম সংসদ থাকা অত্যাবশ্যকীয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাচ্ছি সুনির্দিষ্ট ভূখন্ড থাকলেও সেটা ক্রমেই আগ্রাসী ভারতের নিয়ন্ত্রনে চলে যাচ্ছে। দেশটিতে জনগণ থাকলেও তাদের নাগরিকের কোন অধিকার নাই। যে জনগোষ্ঠী ভোট দিয়ে পছন্দমত সরকার গঠন করতে পারে না, দেশের সার্বভৌমত্ব চলে গেলেও যারা প্রশ্ন করার কোন অধিকার রাখে না, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কোন তত্ত্বেই তাদের নাগরিক বলার সুযোগ নেই। ক্রীতদাসের আবার নাগরিকত্ব কি? রাষ্ট্রের তিন নম্বর নির্ণায়ক, সরকার প্রশ্নে এক বাক্যে বলা যায় যে, বাংলাদেশে বর্তমানে কোন বৈধ সরকার নাই। শেখ হাসিনা একজন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ফ্যাসিস্ট শাসক। শেষ নির্ণায়ক অর্থাৎ, সংসদ সম্পর্কে এটা এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে, নিশিরাতের বাংলাদেশ সংসদ হাসিনার সরকারের অনুরূপ সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। সুতরাং, রাষ্ট্র লাপাতা হয়ে গেছে। সতেরো কোটি জনগণের দূর্ভাগ্য যে, এক শতাব্দিতে দুই-দুইবার স্বাধীনতা লাভ করেও অভাগা বাংলাদেশ আজ চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের একটি ভূখন্ডমাত্র যাকে কোন ভাবেই স্বাধীন দেশের মর্যাদা দেওয়া যাচ্ছে না। দিল্লি সবার হাতে স্বাধীনতার চেতনার একখান করে বায়বীয় ললিপপ ধরিয়ে দিয়েছে। অতএব, এই ভূখন্ডের জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্খার ছিঁটেফোটা আজো যদি অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তারা নতুন শতাব্দিতে এক নতুন স্বাধীনতা সংগ্রামে নামার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

লেখক: সম্পাদক, আামার দেশ        

One Comment

  • Anis Chowdhury বলেছেন:

    I am not sure how people can handle, absorbe and mitigate the relentless Indian onslaught and their increasing hegemonic aspirations. Bangladesh Army completely disappointed the nation and I no longer consider our Army as patriotic. When I see the bravery of Ukrainian Army against the mighty Russian Army, I get inspired but equally felt heart broken comparing them to that ours. On this Eid day, we all pray Allah SWT to face this visible enemies home and abroad.

Leave a Reply